তুচ্ছ ঘটনায় কমলগঞ্জে ছুরিকাঘাতে সিএনজি অটোরিক্সা চালকের মৃত্যু

প্রকাশিত: 3:42 PM, March 5, 2021
ছবি ধলাইর ডাক

স্টাফ রিপোর্টার: মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জের শমশেরনগর সিটি লভারসিজ সিএনজি ফিলিং স্টেশনে গ্যাস ভরা নিয়ে তুচ্ছ ঘটনায় ছুরিকাঘাত করলে এক সিএনজি অটো চালকের মৃত্যু হয়েছে। নিহত সিএনজি অটো চালক জলিল মিয়া (২৬) আলীনগর ইউনিয়নের মুক্তিযোদ্ধা লাল মিয়ার ছেলে। সে এক সন্তানের জনক। ঘটনাটি ঘটে বৃহস্পতিবার রাত ১০টায়।

শমশেরনগর চৌমুহনা সিএনজি চৌমুহনা সিএনজি অটো চালক সমিতি সূত্রে জানা যায়, বৃহস্পতিবার রাতে সিএনজি ফিলিং স্টেশনে আগে গ্যাস ফিলিং করতে কারের লাইনে চলে যায় সিএনজি অটো চালক জলিল মিয়া (২৬)। এ নিয়ে গ্যাস ভরতে আসা কার এর মালিক কমলগঞ্জ সদর ইউনিয়নের সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান গোলাম কিবরিয়া শফির সাথে সিএনজি অটো চালক জলিলের তর্কবিতর্ক শুরু হয়। এক পর্যায়ে উভয় পক্ষের মাঝে হাতাহাতি শুরু হয়। এ সময় গোলাম কিবরিয়া শফি ফোন করে কমলগঞ্জ থেকে একদল যুবককে ঢেকে আনেন। আগত যুবকরা এসেই সিএনজি অটো চালক জলিল মিয়াকে উপর্যপরিভাবে ছুরিকাঘাত করে। এসময় (জলিল)ভাইকে বাঁচাতে আসা কাশেম মিয়াকেও মারধর করা হয়।
ঘটনার পর এলাকাবাসী গুরুতর আহতাবস্থায় অটো চালক জলিল মিয়াকে উদ্ধার করে কমলগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে ভর্তি করেন। তার অবস্থা আশঙ্কা জনক হওয়ায় প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে তাকে রাতেই সিলেট এম এ জি ওসমানী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার পর ওসমানী হাসপাতালের কর্তব্যরত চিকিৎসক (জলিলকে) মৃত ঘোষনা করেন।

এ ব্যাপারে গোলাম কিবরিয়া শফির সাথে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলে তার মুঠোফোন বন্ধ পাওয়া যায়।

কমলগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আবাসকি মেডিক্যাল অফিসার ডা. সাজেদুল কবির বলেন, অটো চালকের দেহে অসংখ্য ছুরিকাঘাত ছিল। তার অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় দ্রুত সিলেট এম এ জি ওসমানী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছিল।

আলীনগর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান ফজলুল হক ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, যে ঘটনাটি ঘটেছে তা খুবই দুঃখজনক। এটি একেবারে ফিল্মী কায়দায় একদল যুবককে ডেকে এনে প্রকাশ্যে ছুরিকাঘাত করা হলো।

এদিকে ঘটনার জের ধরে সুষ্ঠু তদন্ত ও বিচারের দাবীতে শুক্রবার সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত শ্রীমঙ্গল -শমসেরনগর সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করে আলীনগর বস্তিবাসী।

ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে কমলগঞ্জ থানার পরিদর্শক (তদন্ত) সোহেল রানা জানান এ ঘটনায় মামলা প্রক্রিয়াধীন এবং তদন্তপুর্বক দোষীদের আইনের আওতায় আনা হবে।