কমলগঞ্জে প্রশাসনিক ভাবে চারটি বাড়ি ও স্বেচ্ছায় ৯টি গ্রাম লক ডাউন

প্রকাশিত: ৪:৫০ অপরাহ্ণ, এপ্রিল ৭, ২০২০

কমলগঞ্জ প্রতিনিদি: মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জের প্রশাসনিকভাবে পতনউষার ইউনয়িনের উত্তর পতনউষার গ্রামের চারটি বাড়িকে লক ডাউন করে বাড়িগুলোতে লাল পতাকা লাগানো হয়েছে। এই চারটি বাড়ির লোকজন পার্শ্ববর্তী রাজনগর উপজেলার লকডাউন এলাকা থেকে আসায় সোমবার বিকাল ৪টায় কমলগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আশেকুল হক সরেজমিন গিয়ে বাড়িগুলোকে চিন্থিত করে লকডাউন করেন।

অন্যদিকে কমলগঞ্জের ৪টি ইউনিয়নের ৯টি গ্রামের গ্রামবাসীরা স্বেচ্ছায় গ্রামের প্রবেশ পথ বন্ধ করে লকডাউন করেছেন। গ্রামগুলো হচ্ছে শমশেরনগর ইউনয়িনের শিংরাউলী, মাধবপুর ইউনিয়নেরের মাঝেরগাঁও, শিমুলতলা, আদমপুর ইউনয়িনের তেতইগাঁও, ঘোড়ামারা, পশ্চিম কান্দিগাঁও, আলীনগর ইউনিয়নের উত্তর তিলকপুর গ্রাম।

কমলগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয় সূত্রে জানা যায়, খবর পেয়ে সোমবার বিকালে নির্বাহী কর্মকর্তা আশেকুল হক, উপজেলা মেডিক্যাল অফিসার ডা. সৌমিত্র সিনহা ও পতনউষার ইউনিয়নের চেয়ারম্যান প্রকৌশলী তওফিক আহমদ উত্তর পতনউষার গ্রামে যান। সে গ্রামে গিয়ে মফিজ মিয়ার বাড়িতে নিরাপদ দূরত্ব বজায় রেখে চারটি বাড়ির পরিবার সদস্যদের সাথে কথা বলে জানতে পারেন তারা রাজনগর উপজেলার লকডাউন এলাকা থেকে এসেছেন। সেখানে এক ব্যবসায়ী করোনাভাইরাস আক্রান্ত হয়ে মারা গেছেন। সে কারণে পতনউষারের এই চারটি বাড়ি লকডাউন করে চার বাড়ির পাঁচ পরিবার লকডাউনভুক্ত রয়েছেন।

শমশেরনগর ইউনিয়নের শিংরাউলী গ্রামের মুক্তিযোদ্ধা ক্যাপ্টেন অব. সাজ্জাদুর রহমান বলেন, এ গ্রামে ও রাস্তা ব্যবহার করে অবাদে ট্রাক ইট, বালু ও জিমর মাটি পরিবহন করছে একটি চক্র। এ গ্রাম বহিরাগতদের রয়েছে আনাগোনা। গ্রামবাসীদের সু-রক্ষার চিন্তায় গ্রামের ছাত্র,যুবক ও তরুনরা স্বেচ্ছায় নিজ উদ্যোগে গ্রামের প্রবেশ পথে বাঁশ পুতে ব্যারিকেট সৃস্টি করা হয়েছে। বহিরাগতদেও এসময়ে গ্রামে প্রবেশ করতে দেওয়া হচ্ছে না। তবে গ্রামের মানুষজন নিত্য প্রয়োজনীয় সামগ্রী কিনতে বা জরুরী প্রয়োজনে বাহিরে গেলে হাত মুখ ধোয়ে বাহিরে যাচ্ছেন আবার হাতমুখ দোয়ে প্রবেশ করছেন। একই অবস্থা দেখা গেছে স্বেচ্ছায় লক ডাউন হওয়া অন্য গ্রামে।

কমলগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আশেকুল হক পতনউষার ইউনিয়নের উত্তর পতনউষার গ্রামের চারটি বাড়ির ৫টি পরিবারকে লকডাউনে রাখার সত্যতা নিশ্চিত করেন। তিনি বলেন এই পরিবারগুলো করোনাভাইরাস আক্রান্ত নন। তবে তারা লকডাউন এলাকা থেকে এসেছেন বলেন, আপাতত কিছুদিন আলাদাভাবে থাকতে হবে। সে জন্য এই চারটি বাড়িতে লাল পতাকা লাগানো হয়েছে। আর কমলগঞ্জের বিভিন্ন ইউনিয়নের ৯টি গ্রাম স্বেচ্ছায় লক ডাউনে যাওয়ার সত্যতাও তিনি নিশ্চিত করে বলেন, গ্রামবাসীর সু-রক্ষা তারা নিজেরা তা করেছে।