শ্রীমঙ্গলে এনসিপির পথসভা: সন্ত্রাসের রাজনীতি করলে পরাজয় নিশ্চিত—আসিফ মাহমুদ
ধলাই ডেস্ক: জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখপাত্র আসিফ মাহমুদ সজীব ভুঁইয়া বলেছেন, সন্ত্রাসীদের শাস্তি না দিয়ে তাদের পক্ষে দাঁড়ালে গত ১৭ বছরে নিপীড়নের যে দাবি করা হয়, তা ভুয়া প্রমাণিত হবে। তিনি বলেন, “যে সন্ত্রাসীকে প্রশ্রয় দেয়, যে সন্ত্রাসীর পাশে দাঁড়ায়—তার পরাজয় অবশ্যম্ভাবী।

” বৃহস্পতিবার (২৯ জানুয়ারি) দুপুর ১২টার দিকে মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গল স্টেশন রোডের পেট্রোল পাম্পের সামনে এনসিপিসহ ১০ দলীয় জোটের মনোনীত প্রার্থী প্রীতম দাশের নির্বাচনী পদযাত্রা উপলক্ষে আয়োজিত পথসভায় তিনি এসব কথা বলেন। মৌলভীবাজার-৪ (শ্রীমঙ্গল–কমলগঞ্জ) আসনের নির্বাচনী প্রচারের অংশ হিসেবে এ পথসভার আয়োজন করা হয়।

পথসভায় আসিফ মাহমুদ সজীব ভুঁইয়া বলেন, শ্রীমঙ্গল পৌরসভা বর্ধিতকরণের দীর্ঘদিনের দাবি দ্রুত বাস্তবায়ন করা হবে। একই সঙ্গে এই অঞ্চলের বেকার যুবকদের কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং শ্রীমঙ্গল–কমলগঞ্জ এলাকার পর্যটন শিল্পের অপার সম্ভাবনা কাজে লাগাতে এনসিপি কাজ করবে বলে তিনি জানান। প্রার্থী প্রীতম দাশের ভূমিকার কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, দায়িত্বে থাকার সময় তিনি দেখেছেন কীভাবে প্রীতম দাশ স্থানীয় জনগণের দাবি নিয়ে মন্ত্রণালয় ও বিভিন্ন সরকারি দপ্তরে দৌড়ঝাঁপ করেছেন। রাস্তা নির্মাণ, অনুদান আদায়, ন্যায্য হিস্যা ও ন্যায্য মজুরির দাবিতে কাজ করে তিনি বেশ কয়েকটি উন্নয়নমূলক কাজ বাস্তবায়ন করেছেন বলেও দাবি করেন। শ্রমিকদের মজুরি প্রসঙ্গে এনসিপির মুখপাত্র বলেন, দলটি জাতীয় ন্যূনতম মজুরি ঘণ্টায় ১০০ টাকা এবং শিক্ষানবিশ শ্রমিকদের জন্য ঘণ্টায় ৬০ টাকা নির্ধারণের দাবি জানিয়েছে।
তিনি বলেন, বর্তমান মজুরি দিয়ে শ্রমিকদের জীবনযাত্রার ব্যয় নির্বাহ করা কঠিন হলেও তারা দেশের অর্থনীতি সচল রাখতে কাজ করে যাচ্ছেন। এনসিপি নির্বাচিত হলে শ্রমিকদের মজুরি বৃদ্ধি করে জীবনমান উন্নয়নে কাজ করা হবে বলে আশ্বাস দেন তিনি। চা-বাগানের শ্রমিকদের প্রসঙ্গে আসিফ মাহমুদ বলেন, যারা এই উর্বর মাটি থেকে চা উৎপাদন করে দেশ ও বিশ্বে পৌঁছে দিচ্ছে, তাদের ভূমির অধিকার নিশ্চিত করতে আন্দোলন গড়ে তোলা হবে। নির্বাচন ঘনিয়ে আসার সঙ্গে সঙ্গে সহিংসতা বাড়ছে অভিযোগ করে তিনি বলেন, সম্প্রতি সন্ত্রাসী কার্যক্রমের মাধ্যমে একটি দল ক্ষমতায় যাওয়ার চেষ্টা করছে। তিনি দাবি করেন, তাদের শরিক দল জামায়াতে ইসলামীর একজন উপজেলা সেক্রেটারিকে নির্মমভাবে হত্যা করা হয়েছে। তাঁর ভাষায়, “ফ্যাসিবাদী আওয়ামী লীগের মতো হামলা-মামলা ও সন্ত্রাসকে ক্ষমতায় যাওয়ার সিঁড়ি হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছে।

” তিনি আরও বলেন, ভোটের দিন কেন্দ্রে সুষ্ঠু পরিবেশ নিশ্চিত করতে ১১ দলীয় জোট ঐক্যবদ্ধভাবে মাঠে থাকবে, যাতে ভোটাররা নির্বিঘ্নে ভোট দিতে পারেন। বিএনপির কিছু শীর্ষ নেতার বক্তব্যের সমালোচনা করে আসিফ মাহমুদ বলেন, আওয়ামী লীগকে রাজনীতিতে ফেরানোর চেষ্টা জনগণ মেনে নেবে না। তিনি বলেন, “যারা গণহত্যা চালিয়েছে, তাদের পুনর্বাসনের চিন্তা মানেই আবার একই অপরাধের প্রস্তুতি।” পথসভায় তিনি আসন্ন নির্বাচনকে গণভোট আখ্যা দিয়ে বলেন, দেশের ভবিষ্যৎ, জনগণের অধিকার ও ন্যায্য মজুরি আদায়ের পক্ষে ‘হ্যাঁ’ ভোট দেওয়ার আহ্বান জানানো হচ্ছে। দুর্নীতি, চাঁদাবাজি, ভূমিখেকো ও বনখেকোদের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়াতে এবং নারীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি ভোটকেন্দ্রে যাওয়ার আহ্বান জানান তিনি।
পথসভায় আরও বক্তব্য দেন জাতীয় নাগরিক পার্টির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম, যুগ্ম আহ্বায়ক মনিরা শারমিন, অ্যাডভোকেট তারিকুল ইসলাম, এনপিপির মনোনীত প্রার্থী প্রীতম দাশ, ব্যারিস্টার জুনেদ আহমেদ, ফয়সল মাহমুদ শান্ত, লুৎফর রহমানসহ অন্যান্য নেতৃবৃন্দ।


















