শ্রীমঙ্গলে সড়ক ও ফুটপাত দখলমুক্ত করতে প্রশাসনের সাঁড়াশি অভিযান

প্রকাশিত: ৮:১০ অপরাহ্ণ, অক্টোবর ১৯, ২০২৬

মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গলে সড়ক ও ফুটপাত দখল করে অবৈধভাবে গড়ে তোলা দোকানপাট উচ্ছেদে সাঁড়াশি অভিযানে নেমেছে পৌর প্রশাসন। বারবার মাইকিং, সতর্কবার্তা ও অনুরোধ উপেক্ষা করে পথচারীদের চলাচলে বিঘ্ন সৃষ্টি করায় সোমবার (১৯ অক্টোবর) দুপুরে শহরের গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টগুলোতে এ অভিযান পরিচালিত হয়।

​অভিযানে নেতৃত্ব দেন শ্রীমঙ্গল উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ও পৌর প্রশাসক মো. জিয়াউর রহমান। এ সময় উপস্থিত ছিলেন পৌরসভার নির্বাহী প্রকৌশলী মো. জহিরুল ইসলামসহ প্রশাসনের পদস্থ কর্মকর্তা ও আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা।

​সরেজমিনে দেখা যায়, সোমবার দুপুরে শহরের ব্যস্ততম স্টেশন রোড, মৌলভীবাজার রোড, হবিগঞ্জ রোডসহ আশপাশের এলাকায় অভিযান চালিয়ে ফুটপাত ও সড়কের ওপর গড়ে ওঠা অর্ধশতাধিক অস্থায়ী দোকান ও অবৈধ স্থাপনা গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়।

​স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, আসন্ন শারদীয় দুর্গাপূজাকে কেন্দ্র করে পর্যটন নগরী শ্রীমঙ্গলে এখন দর্শনার্থী ও যানবাহনের উপচে পড়া ভিড়। এর মধ্যে প্রধান সড়ক ও বিভিন্ন বিপণিবিতানের সামনের ফুটপাত দখল করে ভাসমান দোকান বসানোয় ভোগান্তি চরমে পৌঁছেছিল। ফুটপাতে হাঁটার জায়গা না থাকায় পথচারীরা বাধ্য হয়ে ব্যস্ত মূল সড়ক দিয়ে চলাচল করছিলেন, যার ফলে প্রতিনিয়ত তীব্র যানজটের পাশাপাশি ঘটছিল দুর্ঘটনা। দীর্ঘদিন ধরে একটি অসাধু চক্র ফুটপাত বাণিজ্য চালিয়ে শহরের ট্রাফিক ব্যবস্থাকে সম্পূর্ণ অচল করে রেখেছিল বলে অভিযোগ স্থানীয়দের।

​পৌর প্রশাসন সূত্রে জানা যায়, শহরকে শৃঙ্খলায় ফেরাতে গত কয়েকদিন ধরেই ধারাবাহিক পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে। এর অংশ হিসেবে গত ১৬ অক্টোবর সচেতনতামূলক কার্যক্রমের পর ১৭ অক্টোবর সহকারী কমিশনার (ভূমি) মোহাম্মদ মিনহাজুল ইসলাম ও ইউএনও মো. জিয়াউর রহমানের নেতৃত্বে দুই দফায় যৌথ উচ্ছেদ অভিযান চালানো হয়। তবে অভিযান শেষ হতে না হতেই দখলদাররা পুনরায় ফুটপাত দখল করায় এবার আরও কঠোর রূপ নেয় প্রশাসন।

​অভিযান প্রসঙ্গে পৌরসভার নির্বাহী প্রকৌশলী মো. জহিরুল ইসলাম বলেন, “নাগরিকদের অবাধ চলাচল নিশ্চিত করা এবং যানজটমুক্ত শহর গড়াই আমাদের মূল লক্ষ্য। উচ্ছেদের পর কেউ আবার জায়গা দখলের চেষ্টা করলে এবার কোনো ছাড় দেওয়া হবে না, সরাসরি আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হবে।”

​পুনর্দখল রোধে ‘জিরো টলারেন্স’ ঘোষণা করে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও পৌর প্রশাসক মো. জিয়াউর রহমান বলেন, “পথচারীদের নিরাপত্তা ও স্বাচ্ছন্দ্যে চলাচলের অধিকার যেকোনো মূল্যে রক্ষা করা হবে। উৎসবকে কেন্দ্র করে শুধু নয়, শ্রীমঙ্গলকে একটি পরিচ্ছন্ন, নিরাপদ ও সুশৃঙ্খল শহর হিসেবে গড়ে তুলতে এই উচ্ছেদ অভিযান ও কঠোর নজরদারি অব্যাহত থাকবে।”