
ধলাই ডেস্ক: হাত থেকে মেহেদির রঙ না মুছতেই সলিল সমাধি হয়েছে রাজশাহীর নববধূ সুইটি খাতুন পূর্ণিমার (২০)। হাজার স্বপ্ন চোখে তলিয়ে গেছেন পদ্মার কালো জলের অতলে। শুক্রবার (৬ মার্চ) সন্ধ্যায় নগরীর শ্রীরামপুর এলাকার পদ্মায় নদীতে নৌকা ডুবে নিখোঁজ হন ওই নববধূ। রোববার (৮ মার্চ) দ্বিতীয় দিনের মতো নববধূসহ তিনজনের মরদেহের সন্ধানে পদ্মায় নেমেছেন ডুবুবিরা। তবে বেলা সাড়ে ১১টা পর্যন্ত কোনো মরদেহের সন্ধান মেলেনি।
এদিকে নববধূর মরদেহের আশায় পদ্মাপাড়ে অপেক্ষার প্রহর গুনছেন বর আসাদুজ্জামান রুমন (২৬)। একই নৌকার সহযাত্রী ছিলেন নতুন এই যুগল। নিখোঁজ স্বজনদের মরদেহের আশায় পদ্মাপাড়ে অপেক্ষা করছেন স্বজনরাও। ভিড় জমিয়েছেন বিপুল সংখ্যক উৎসুক জনতা।
এ দুর্ঘটনায় নিখোঁজ হন কনে পূর্ণিমাসহ ৯ জন। দুর্ঘটনার পর থেকে শনিবার (৭ মার্চ) বিকেল পর্যন্ত একে একে পদ্মা থেকে উঠে আসে ছয়জনের মরদেহ। তবে খোঁজ মেলেনি কনে পূর্ণিমা, তার খালা আঁখি (২৫) ও ফুফাতো বোনের মেয়ে রুবাইয়ার (১০)।
এ পর্যন্ত যাদের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে তারা হলেন- কনের চাচা শামীম (৪০), চাচি মনি বেগম (৩৫), তাদের মেয়ে রশ্মি (১০), কনের দুলাভাই রতন আলী (২৮), ভাগনি মরিয়ম (৮) এবং খালাতো ভাই এখলাস (২৮)।
অনুসন্ধান ও উদ্ধার সমন্বয় কেন্দ্রের ফোকাল পয়েন্ট সালাহউদ্দিন আল ওয়াদুদ বলেন, নৌকা দুটিতে ৪১ জন আরোহী ছিলেন। জীবিত উদ্ধার করা হয়েছে ৩২ জনকে। মরদেহ উদ্ধার হয়েছে ছয়জনের। এখনও নিখোঁজ কনেসহ তিনজন। তাদের উদ্ধারে তৎপরতা চলছে।
স্থানীয় সূত্র জানায়, বৃহস্পতিবার (৫ মার্চ) পদ্মার ওপারের পবা উপজেলার চরখিদিরপুর এলাকার ইনসার আলীর ছেলে আসাদুজ্জামান রুমনের সঙ্গে একই উপজেলার ডাঙেরহাট এলাকার শাহীন আলীর মেয়ে সুইটি খাতুন পূর্ণিমার বিয়ে হয়। শুক্রবার (৬ মার্চ) বরের বাড়ি থেকে দুটি নৌকায় বর-কনেকে নিয়ে আসছিল কনেপক্ষ। সন্ধ্যা ৭টার দিকে নৌকা দুটি রাজশাহী নগরীর শ্রীরামপুর ডিসির বাংলো এলাকায় পদ্মা নদীতে ডুবে যায়। এতে এ হতাহতের ঘটনা ঘটে।
সূত্র: জাগো নিউজ…