বোনাস ও বকেয়ার দাবিতে মিরতিংগায় চা শ্রমিকদের কর্মবিরতি

প্রকাশিত: ১:৪৪ পূর্বাহ্ণ, অক্টোবর ১৫, ২০২৬

শারদীয় দুর্গাপূজার প্রাক্কালে উৎসবের আনন্দ যখন দুয়ারে কড়া নাড়ছে, তখন বকেয়া মজুরি ও ন্যায্য বোনাসের দাবিতে রাজপথে নেমেছেন মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জের মিরতিংগা চা বাগানের শ্রমিকেরা। বাগান কর্তৃপক্ষের বোনাস কমানোর সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে বুধবার (১৪ অক্টোবর) সকাল ৯টা থেকে কর্মবিরতি পালন করে বিক্ষোভ কর্মসূচিতে অংশ নেন তারা।

সরেজমিনে দেখা যায়, মাথায় ও হাতে কালো পতাকা বেঁধে প্ল্যাকার্ড হাতে ক্ষোভে ফেটে পড়েন শ্রমিকেরা। তাদের হাতে থাকা সাদা কাগজের প্ল্যাকার্ডে লেখা ছিল রুটি-রুজির সংগ্রাম চলছে, চলবে’ এবং ‘বেতন নিয়ে টালবাহানা চলবে না’। উৎসবের প্রস্তুতি ফেলে রেখে অধিকার আদায়ে নামা শ্রমিকদের কণ্ঠে ছিল বঞ্চনার ক্ষোভ।

 

বিক্ষুব্ধ শ্রমিকদের অভিযোগ, প্রতিবছর দুর্গাপূজায় প্রচলিত নিয়ম অনুযায়ী তারা ৬০ শতাংশ হারে বোনাস পেয়ে আসছিলেন। তবে চলতি বছর বাগান কর্তৃপক্ষ তা কমিয়ে অর্ধেক, অর্থাৎ ৩০ শতাংশ দেওয়ার ঘোষণা দেয়। পাশাপাশি এক সপ্তাহের নিয়মিত মজুরিও এখনো বকেয়া রয়ে গেছে। আশপাশের অন্যান্য বাগানে শ্রমিকেরা বেতন-বোনাস পেলেও মিরতিংগায় এসে এই টানাপোড়েন তৈরি হওয়ায় ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে বাগানজুড়ে।

মিরতিংগা চা বাগান পঞ্চায়েতের সভাপতি মন্টু অলমিক ও সাবেক সভাপতি নিরঞ্জন তন্তবাই বলেন, “চা শিল্পের চাকা সচল রাখতে সারা বছর ঘাম ঝরান শ্রমিকেরা। অথচ উৎসবের সময়ে এসে তাদের ভাগ্যে জোটে অনিশ্চয়তা। দ্রুততম সময়ের মধ্যে পুরো বোনাস ও বকেয়া মজুরি পরিশোধ করা না হলে আরও কঠোর কর্মসূচির ডাক দেওয়া হবে।

এ বিষয়ে মিরতিংগা চা বাগানের ব্যবস্থাপক রেজাউল হায়াত খান (ইমন) শ্রমিকদের দাবির যৌক্তিকতা স্বীকার করে বলেন, শ্রমিকদের দাবি অমূলক নয়। বোনাস পরিশোধের লক্ষ্যে বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের কাছে ঋণের আবেদন করা হয়েছিল। তবে প্রয়োজনীয় অর্থ না পাওয়ায় এই মুহূর্তে পূর্ণ বোনাস পরিশোধ করা সম্ভব হচ্ছে না। সাময়িক সংকট সামাল দিতে অর্ধেক বোনাসের প্রস্তাব দেওয়া হলেও শ্রমিকেরা তা প্রত্যাখ্যান করেছেন।

বুধবারের মধ্যে প্রাপ্য পূর্ণ বোনাস ও বকেয়া মজুরির সুরাহা না হলে লাগাতার আন্দোলনের মাধ্যমে বাগান অচলাবস্থার দিকে নিয়ে যাওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন ক্ষুব্ধ চা শ্রমিকেরা।