কমলগঞ্জে চেকপোস্ট আর টহল ফাঁকি দিয়ে সাবাড় ১৪টি গাছ, ক্ষুব্ধ স্থানীয়রা

প্রকাশিত: ১০:১৭ অপরাহ্ণ, অক্টোবর ১৫, ২০২৬

কমলগঞ্জে চেকপোস্ট আর টহল ফাঁকি দিয়ে সাবাড় ১৪টি গাছ, ক্ষুব্ধ স্থানীয়রানিকটেই বন বিভাগের কার্যালয়, সড়কে সার্বক্ষণিক চেকপোস্ট এবং নিয়মিত পুলিশি টহল এতসব কড়া নজরদারির ভেতরেই মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জে রাতের আঁধারে উধাও হয়ে গেছে সড়কের পাশের ১৪টি মূল্যবান গাছ। উপজেলার আদমপুর সড়কের ঘোরামারা এলাকায় ঘটে যাওয়া এই দুঃসাহসিক গাছ চুরির ঘটনায় স্থানীয়দের মাঝে তীব্র ক্ষোভ ও রহস্যের সৃষ্টি হয়েছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, বুধবার দিবাগত রাতের কোনো এক সময় ঘোরামারা এলাকায় সড়কের পাশে থাকা ইউক্যালিপটাস ও জামজাতীয় ১৪টি গাছ কেটে নিয়ে যায় একদল দুর্বৃত্ত। কেটে নেওয়া গাছগুলোর বয়স আনুমানিক ১০ থেকে ১২ বছর এবং আনুমানিক বাজারমূল্য আড়াই থেকে তিন লাখ টাকা। সকালে সড়কের পাশে কেবল গাছের তাজা গোড়া পড়ে থাকতে দেখে বিষয়টি জানাজানি হয়। স্থানীয়দের ধারণা, গাছ কাটার শব্দ ও সময় কমাতে বৈদ্যুতিক করাত ব্যবহার করা হয়েছে এবং দ্রুত গতিতে গাছগুলো খণ্ড খণ্ড করে ট্রাকে করে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে।

নিকটবর্তী স্থানে বন বিভাগের উপস্থিতি সত্ত্বেও এমন ঘটনা ঘটায় স্থানীয়দের মধ্যে নানা প্রশ্নের উদ্রেক হয়েছে। স্থানীয় বাসিন্দা আব্দুস সালাম ও হেলাল মিয়া ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “ঘটনাস্থলের মাত্র অল্প দূরত্বের মধ্যেই রাজকান্দি বনরেঞ্জের কার্যালয় এবং নিয়মিত চেকপোস্ট রয়েছে। রাতে পুলিশও টহলে থাকে। ১৪টি বড় গাছ কাটতে এবং তা গাড়িতে তুলতে বেশ কয়েক ঘণ্টা সময়ের প্রয়োজন। এত বড় একটি কাণ্ড কারও চোখে পড়ল না কীভাবে?” এমন ঘটনায় সামাজিক বনায়ন ও বনাঞ্চলের নিরাপত্তা নিয়ে চরম শঙ্কা প্রকাশ করেন তাঁরা।

আদমপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আবদাল হোসেন ঘটনাটিকে উদ্বেগজনক আখ্যা দিয়ে বলেন, সড়কের পাশ থেকে একসঙ্গে এতগুলো গাছ কেটে নিয়ে যাওয়া সাধারণ কোনো বিষয় নয়। ঘটনাটি জানার পরপরই আমি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা, বন বিভাগ ও থানা-পুলিশকে অবহিত করেছি। দ্রুত সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে এই চক্রকে শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনার জোর দাবি জানাচ্ছি।

এ বিষয়ে কমলগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সন্ধীপ তালুকদার জানান, ঘটনাটি তিনি জেনেছেন এবং উপজেলা এলজিইডি প্রকৌশলীর সঙ্গে প্রাথমিক আলোচনা করেছেন। থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ছুটিতে থাকায় তিনি কর্মস্থলে ফিরলেই পুলিশ ও প্রশাসনের পক্ষ থেকে এ ব্যাপারে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

তবে সুরক্ষিত এলাকায় কীভাবে নির্বিঘ্নে এতগুলো গাছ কেটে পরিবহন করা হলো এবং এর পেছনে বন বিভাগ বা সংশ্লিষ্ট কারও যোগসাজশ রয়েছে কি না, তা নিয়ে এলাকায় নানা গুঞ্জন চলছে। ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও জড়িতদের দ্রুত গ্রেপ্তারের দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় সচেতন মহল।