অনলাইন ডেস্ক: হামদ, নাত, তাকবির আর দরুদ শরিফের ধ্বনিতে মুখরিত বন্দরনগরী চট্টগ্রামে অনুষ্ঠিত হয়েছে পবিত্র ঈদে মিলাদুন্নবী (সা.) উপলক্ষে ঐতিহাসিক ৫৬তম জশনে জুলুস। বুধবার (২৬ আগস্ট) সকালে নগরের ষোলশহর জামেয়া আহমদিয়া সুন্নিয়া কামিল মাদরাসা সংলগ্ন আলমগীর খানকা-এ কাদেরিয়া সৈয়্যদিয়া তৈয়বিয়া থেকে এই বিশাল বর্ণাঢ্য মিছিল শুরু হয়।
আনজুমানে রহমানিয়া আহমদিয়া সুন্নিয়া ট্রাস্টের ব্যবস্থাপনায় আয়োজিত এই জুলুসে অংশ নিতে ভোর থেকেই দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে কয়েক লাখ ধর্মপ্রাণ মানুষ চট্টগ্রামে সমবেত হতে থাকেন। ১৯৭৪ সালে আল্লামা সৈয়্যদ মুহাম্মদ তৈয়্যব শাহ্ (রহ.) কর্তৃক প্রবর্তিত এই জুলুসটি এবার ৫৬তম বছরে পদার্পণ করেছে।
এবারের জুলুসে নেতৃত্ব দেন আওলাদে রাসুল (দ.) আল্লামা সৈয়্যদ মুহাম্মদ সাবির শাহ। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন শাহজাদা সৈয়্যদ মুহাম্মদ কাসেম শাহ ও শাহজাদা সৈয়্যদ মুহাম্মদ আকিব শাহ। জুলুসটি বিবিরহাট, মুরাদপুর, ২ নম্বর গেট, জিইসি, ওয়াসা মোড়, লালখান বাজার ও টাইগার পাস হয়ে পুনরায় মাদরাসা ময়দানে এসে শেষ হয়।
জুলুস শেষে আয়োজিত সমাবেশে পীর আল্লামা সাবির শাহ বলেন, “প্রিয় নবীর আগমনে খুশি উদযাপন করা কোরআন ও হাদিস দ্বারা স্বীকৃত। জশনে জুলুস এমন একটি কর্মসূচি যেখানে শরিয়ত বিরোধী কোনো কাজ হয় না; বরং এখানে কোরআন তেলাওয়াত, নাতে রাসুল (দ.) পাঠ ও নবীর সীরাত নিয়ে আলোচনা হয়। ঈদে মিলাদুন্নবী উদযাপন করতে পারা বড় ভাগ্যের ব্যাপার।”
জুলুস উপলক্ষে পুরো নগরীকে তোরণ, ব্যানার, ফেস্টুন ও সবুজ পতাকায় বর্ণিল সাজে সাজানো হয়। সড়কের বিভিন্ন মোড়ে সাধারণ মানুষের পক্ষ থেকে জুলুসে অংশগ্রহণকারীদের জন্য শরবত ও শুকনো খাবার বিতরণ করা হয়। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পাশাপাশি প্রায় ১০ হাজার স্বেচ্ছাসেবক নিরাপত্তা ও শৃঙ্খলা রক্ষায় দায়িত্ব পালন করেন।
অনুষ্ঠানে আনজুমান ট্রাস্টের সিনিয়র ভাইস প্রেসিডেন্ট মোহাম্মদ মনজুর আলম, সেক্রেটারি জেনারেল মোহাম্মদ আনোয়ার হোসেনসহ গাউসিয়া কমিটির কেন্দ্রীয় ও স্থানীয় নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন। পরিশেষে দেশ ও জাতির কল্যাণ এবং মুসলিম উম্মাহর শান্তি কামনায় আখেরি মোনাজাতের মাধ্যমে অনুষ্ঠানের সমাপ্তি ঘটে।
