আসন্ন শারদীয় দুর্গাপূজা নির্বিঘ্ন, শান্তিপূর্ণ ও উৎসবমুখর পরিবেশে উদযাপনের লক্ষ্যে মৌলভীবাজারে আইন-শৃঙ্খলা ও নিরাপত্তা বিষয়ক এক বিশেষ মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (৮ অক্টোবর ২০২৬) বিকেলে মৌলভীবাজার পুলিশ সুপারের কার্যালয়ের সম্মেলন কক্ষে জেলা পুলিশের আয়োজনে এ সভা অনুষ্ঠিত হয়। এতে সভাপতিত্ব করেন মৌলভীবাজারের পুলিশ সুপার মোঃ মনিরুল ইসলাম।
সভায় পূজামণ্ডপসমূহের নিরাপত্তা জোরদার, সার্বিক আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখা, সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি অটুট রাখা এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে যেকোনো ধরনের গুজব ও অপপ্রচার প্রতিহত করাসহ পূজা-পূর্ববর্তী, পূজাকালীন ও প্রতিমা বিসর্জন সংক্রান্ত সার্বিক নিরাপত্তা কৌশল নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়।
সভায় পূজামণ্ডপ, প্রতিমা নির্মাণস্থল ও সংরক্ষণ এলাকায় বাধ্যতামূলক সিসিটিভি ক্যামেরা স্থাপন, পর্যাপ্ত আলোকসজ্জা নিশ্চিতকরণ এবং কার্যকর অগ্নিনির্বাপণ ব্যবস্থা রাখার নির্দেশনা দেওয়া হয়। পাশাপাশি পূজা কমিটির নিজস্ব স্বেচ্ছাসেবকদের যথাযথ যাচাই-বাছাই শেষে পরিচয়পত্র ও দৃশ্যমান আর্মব্যান্ড প্রদানের ওপর জোর দেওয়া হয়। কোনো মণ্ডপ বা কমিটিকে কেন্দ্র করে পূর্ববিরোধ বা অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্ব থাকলে তা আগেভাগেই স্থানীয়ভাবে সমাধান ও পুলিশকে অবহিত করার আহ্বান জানানো হয়।
পূজা চলাকালীন মাদক, ইভটিজিং, ছিনতাই, জুয়া, হাউজি এবং আতশবাজি ও পটকা ফুটানো বন্ধে কঠোর অবস্থানের কথা ব্যক্ত করা হয়। পূজামণ্ডপকে রাজনৈতিক প্রভাবমুক্ত রাখা, গভীর রাতে উচ্চশব্দে ডিজে বা মাইক না বাজানো এবং মসজিদসংলগ্ন মণ্ডপগুলোতে আজান ও নামাজের সময় শব্দযন্ত্রের ব্যবহার সম্পূর্ণ সীমিত রাখার অনুরোধ জানানো হয়।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ধর্মীয় কটূক্তি, উসকানিমূলক পোস্ট, ভিডিও বা ফেইক আইডির মাধ্যমে কোনো বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়ালে তা দ্রুততম সময়ে পুলিশকে জানানোর অনুরোধ জানিয়ে পুলিশ সুপার বলেন, “আইন নিজের হাতে তুলে নেওয়া যাবে না। যেকোনো অপ্রীতিকর পরিস্থিতি এড়াতে পুলিশ ও প্রশাসন সর্বোচ্চ সতর্কাবস্থায় রয়েছে।
অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম অ্যান্ড অপস) নোবেল চাকমা, পিপিএম-এর সঞ্চালনায় সভায় উপস্থিত ছিলেন অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন ও অর্থ) আসিফ মহিউদ্দিন, পিপিএম; অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (কুলাউড়া সার্কেল) মোস্তাফিজুর রহমান; সহকারী পুলিশ সুপার (শ্রীমঙ্গল সার্কেল) মোঃ ওয়াহিদুজ্জামান রাজু; জেলা বিশেষ শাখার ডিআইও-১; টিআই (প্রশাসন) কামরুল হাসান এবং জেলা গোয়েন্দা শাখার অফিসার ইনচার্জসহ জেলার সকল থানার অফিসার ইনচার্জবৃন্দ।
এছাড়া সভায় এসআরবি, ৪৬, ৫২ ও ৫৫ বিজিবির প্রতিনিধি, জেলা আনসার-ভিডিপির কর্মকর্তা এবং মৌলভীবাজার জেলা, উপজেলা ও পৌর পর্যায়ের পূজা উদযাপন পরিষদ ও পূজা উদযাপন ফ্রন্টের শীর্ষ নেতৃবৃন্দ উপস্থিত থেকে মতামত তুলে ধরেন।
