সুদমুক্ত সমৃদ্ধির লক্ষে ডক্টর অপু আবুল হাসানের ব্যতিক্রমী ‘৫-এস মডেল’
ধলাই ডেস্ক: আধুনিক বিশ্বের জটিল অর্থনৈতিক সংকট সমাধানে এবং শোষনমুক্ত সমাজ গঠনে এক নতুন দিগন্তের উন্মোচন করেছেন ডক্টর অপু আবুল হাসান। নোবেল বিজয়ী ডক্টর মুহাম্মদ ইউনূসের থ্রি জিরো মডেলের পর এবার আন্তর্জাতিক মানের এক ব্যতিক্রমী ইসলামিক অর্থনৈতিক মডেল নিয়ে এসেছেন তিনি যার নাম ৫-এস মডেল। এই মডেলটি মূলত সাম্য সমৃদ্ধি ও বরকতের এক অনন্য সমন্বয়। ৫-এস মডেলটি পাঁচটি বিশেষ স্তম্ভের ওপর দাঁড়িয়ে যা শুকুক শারকাহ শ্রম সামান ও সার্ভিস নামে পরিচিত। ডক্টর অপুর এই মডেলের মূল দর্শন হলো পুঁজি আমানত শ্রম ইবাদত এবং লাভ অংশীদারিত্ব। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন এই মডেলটি সফলভাবে বাস্তবায়ন হলে বাংলাদেশের গ্রামীণ অর্থনীতি বিশেষ করে কমলগঞ্জের মতো এলাকাগুলো দ্রুত স্বয়ংসম্পূর্ণ হয়ে উঠবে। এই মডেলের প্রথম স্তম্ভ হলো শুকুক যা পুঁজি সংগ্রহের মূল ইঞ্জিন হিসেবে কাজ করবে। এখানে বড় বড় প্রজেক্টের জন্য সাধারণ মানুষের ক্ষুদ্র সঞ্চয়কে বিনিয়োগে রূপান্তর করা হয় যার মুনাফা সরাসরি এলাকার মানুষের কাছেই থাকে। দ্বিতীয় স্তম্ভ শারকাহ বা অংশীদারিত্বের মাধ্যমে জামানত ছাড়াই মেধাবী উদ্যোক্তাদের সাথে যৌথ ব্যবসায়িক সম্পর্ক গড়ে তোলা হয়। এতে শূন্য বেকারত্ব অর্জনের পথ প্রশস্ত হয়। মডেলটির তৃতীয় স্তম্ভ শ্রম বা মুদারাবা পদ্ধতিতে যার পুঁজি নেই কিন্তু দক্ষতা আছে তার শ্রমকেই সম্পদ হিসেবে দেখা হয়। চতুর্থ স্তম্ভ সামান এর মাধ্যমে নগদ ঋণের পরিবর্তে প্রয়োজনীয় কাঁচামাল বা পণ্য সরবরাহ করে মুদ্রাস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ করা হয়। সর্বশেষ স্তম্ভ সার্ভিস এর মাধ্যমে ভারী যন্ত্রপাতি বা প্রযুক্তি লিজ দিয়ে ক্ষুদ্র উদ্যোক্তাদের সক্ষমতা বাড়ানো হয়। প্রচলিত ব্যাংকিং ব্যবস্থার সাথে এই মডেলের মূল পার্থক্য হলো এটি সম্পূর্ণ সম্পদভিত্তিক এবং মানবিক। এখানে ঋণের দায়ে কাউকে নিঃস্ব হতে হয় না। ব্যবসার লোকসান হলে তাকাফুল বা সামাজিক নিরাপত্তা তহবিলের মাধ্যমে তাকে পুনরায় দাঁড়ানোর সুযোগ করে দেওয়া হয়। ৫-এস মডেলের সফল প্রয়োগে বাংলাদেশের প্রতিটি গ্রাম হয়ে উঠতে পারে এক একটি স্বয়ংসম্পূর্ণ অর্থনৈতিক হাব। ডক্টর অপু আবুল হাসানের এই উদ্ভাবনী চিন্তা কেবল দারিদ্র্য বিমোচনই করবে না বরং এটি পরিবেশবান্ধব এবং টেকসই উন্নয়নের এক নতুন মানদণ্ড স্থাপন করবে।


















