ঢাকা, ১লা অক্টোবর, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

কুলাউড়ায় রাতের আঁধারে খাসিয়াদের পানজুম নিধন

প্রকাশিত: ১০:৫১ অপরাহ্ণ, অক্টোবর ১, ২০২৬

মৌলভীবাজারের কুলাউড়া উপজেলায় খাসিয়াদের জীবিকার প্রধান সম্বল পানের জুমে রাতের আঁধারে নারকীয় তাণ্ডব চালিয়েছে দুর্বৃত্তরা। এক রাতেই কেটে সাবাড় করা হয়েছে ৯টি পরিবারের প্রায় ৮ হাজার ফলন্ত পানগাছ। এতে চরম অনিশ্চয়তা ও বিপর্যয়ের মুখে পড়েছে ভুক্তভোগী পরিবারগুলো।

গত বুধবার (৩০ সেপ্টেম্বর) দিবাগত রাতে উপজেলার কর্মধা ইউনিয়নের নার্সারি খাসিয়া পুঞ্জিতে এ বর্বরোচিত ঘটনা ঘটে। ক্ষতিগ্রস্ত জুম মালিকরা হলেন—লিকিন খংপ্ডা, পাইলা পতাম, নাসরিন পতাম, জনি পতাম, নিস্তার পাটুয়াট, শিউলি আজিম, টিউনি আজিম, ডিমান পতাম এবং মাসার তংপের।

সরেজমিনে দেখা যায়, জুমজুড়ে সারিবদ্ধভাবে কেটে মাটিতে ফেলে রাখা হয়েছে উৎপাদনক্ষম পানগাছগুলো। চার বছরের হাড়ভাঙা খাটুনি আর বিনিয়োগ মুহূর্তে ধূলিসাৎ হয়ে যাওয়ায় কান্নায় ভেঙে পড়েন ক্ষতিগ্রস্তরা।

অশ্রুসজল কণ্ঠে ভুক্তভোগী নাসরিন পতাম বলেন, কে বা কারা এই নারকীয় তাণ্ডব চালাল জানি না। তবে যারা করেছে, তারা ভালো করেই জানে খাসিয়াদের শেষ করে দেওয়ার সবচেয়ে সহজ পথ পানের বরজ ধ্বংস করা। আমাদের দিনভর পরিশ্রমের সুযোগ নিয়ে রাতের আঁধারে সবকিছু তছনছ করে দেওয়া হলো। এখন পরিবার নিয়ে আমরা কোথায় দাঁড়াব?

নার্সারি পুঞ্জির মান্রী জনি পতাম ক্ষোভ ও হতাশা প্রকাশ করে জানান, চার বছর নিবিড় পরিচর্যার পর একটি গাছ থেকে পান সংগ্রহের উপযোগী হয়। অথচ এক রাতের ব্যবধানে দায়ের কোপে ৯টি পরিবারের আয়ের একমাত্র পথ রুদ্ধ করে দেওয়া হয়েছে। পুঞ্জিজুড়ে এখন চরম আতঙ্ক বিরাজ করছে। তিনি এ ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান।

খাসিয়া জনগোষ্ঠীর ওপর এমন ধারাবাহিক হামলার ঘটনায় তীব্র ক্ষোভ ও উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন কুবরাজ আন্তঃপুঞ্জি উন্নয়ন সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক ফ্লোরা বাবলী তালাং। তিনি বলেন, আদিবাসী খাসিয়াদের জীবিকার ওপর বারবার আঘাত হানার পরও কেন নিরাপত্তা নিশ্চিত হচ্ছে না? অতীতের ঘটনাগুলোর মতো এবারও যদি অপরাধীরা ছাড় পেয়ে যায়, তবে এ তাণ্ডব কখনোই থামবে না। অবিলম্বে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোকে পুনর্বাসন এবং ঘটনার পেছনে থাকা চক্রকে চিহ্নিত করার দাবি জানান তিনি।

এ বিষয়ে কুলাউড়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জহিরুল ইসলাম মুন্না বলেন, ঘটনার খবর পাওয়ার পরপরই পুলিশ দল ঘটনাস্থলে পাঠানো হয়েছে। বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে। তদন্ত সাপেক্ষে দোষীদের বিরুদ্ধে আইনগত কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

  • এই বিভাগের সর্বশেষ