মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জে দুর্ধর্ষ চুরির তাণ্ডব চালিয়েছে সংঘবদ্ধ চোরচক্র। উপজেলার মাধবপুর ও সদর ইউনিয়নের বিভিন্ন এলাকায় একই রাতে দুটি মসজিদের দানবাক্সসহ অন্তত সাতটি ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে চুরির ঘটনা ঘটেছে। একের পর এক এমন চুরির ঘটনায় স্থানীয় ব্যবসায়ী ও সাধারণ বাসিন্দাদের মধ্যে চরম আতঙ্ক ও ক্ষোভ বিরাজ করছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সোমবার (২৬ অক্টোবর) দিবাগত রাতে উপজেলার মাধবপুর ইউনিয়নের লংগুরপার গ্রামের সামসু মিয়া ও বাবুল মিয়ার দোকান, টিলাগাঁওয়ের ফরিদ মিয়ার দোকান এবং ভাসানীগাঁও এলাকার তালেব ও আব্দুল্লাহর দোকানসহ একাধিক ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানের তালা ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করে চোরেরা। একই রাতে সদর ইউনিয়নের লংগুরপার এলাকার হাবিব মিয়ার দোকানেও হানা দেয় তারা। এছাড়া দুর্বৃত্তরা মকবুল মিয়া নামের এক ব্যবসায়ীর দোকানের তালা ভেঙে ভেতরে ঢুকলেও কোনো মূল্যবান মালামাল না পেয়ে খালি হাতে ফিরে যায়।
শুধু ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানই নয়, ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানও রেহাই পায়নি এই চোরচক্রের হাত থেকে। একই রাতে ভাসানীগাঁও জামে মসজিদ ও দক্ষিণ লংগুরপার জামে মসজিদের দানবাক্স ভেঙে ভেতরে থাকা সমুদয় অর্থ লুট করে নিয়ে যায় দুর্বৃত্তরা।
ভুক্তভোগী ও স্থানীয়রা জানান, এর মাত্র কয়েক দিন আগে মাধবপুর ইউনিয়নের ভাসানীগাঁও এলাকায় হাবিবুর রহমান নামের এক ব্যবসায়ীর দোকানে চুরি হয়। সেখান থেকে নগদ ৬১ হাজার টাকা, একটি মোবাইল ফোন নিয়ে যায় চোরেরা। স্থানীয়দের অভিযোগ, আগের ঘটনাগুলোর কোনো কূলকিনারা না হওয়া এবং জড়িতরা ধরাছোঁয়ার বাইরে থাকায় অপরাধীরা আরও বেপরোয়া হয়ে উঠেছে। এতে এলাকার ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান ও ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের নিরাপত্তা এখন চরম হুমকির মুখে পড়েছে।
এ বিষয়ে কমলগঞ্জ থানার উপপরিদর্শক (এসআই) আমির উদ্দিন চুরির ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, পুলিশ বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে খতিয়ে দেখছে এবং জড়িতদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনতে তদন্ত চলছে। দ্রুতই এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
