কমলগঞ্জে জাতীয় কন্যাশিশু দিবস উদযাপিত: বাল্যবিবাহ প্রতিরোধে ঐক্যবদ্ধ প্রচেষ্টার আহ্বান
‘শিশুবিয়ে আর নয়, কন্যা করবে বিশ্ব জয়’—এই প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জে যথাযোগ্য মর্যাদায় জাতীয় কন্যাশিশু দিবস উদযাপিত হয়েছে। এ উপলক্ষে উপজেলা প্রশাসন ও উপজেলা মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তার কার্যালয়ের যৌথ উদ্যোগে বর্ণাঢ্য র্যালি, আলোচনা সভা ও পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।
সোমবার কমলগঞ্জ বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে আয়োজিত এ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সন্ধীপ তালুকদার।
উপজেলা মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তা মধুছন্দা দাসের সভাপতিত্বে এবং বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক হাবিবুর রহমানের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা সামছুনাহার পারভীন, কমলগঞ্জ প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক আহমেদুজ্জামান আলম, কমলগঞ্জ রিপোর্টার্স ইউনিটির সভাপতি নির্মল এস পলাশ ও তথ্যসেবা কর্মকর্তা (তথ্য আপা) স্বর্ণালী সিনহা।
আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে বক্তারা বলেন, বাল্যবিবাহ কন্যাশিশুর স্বাভাবিক বিকাশ, শিক্ষা ও উজ্জ্বল ভবিষ্যৎ গঠনের ক্ষেত্রে প্রধান অন্তরায়। একটি সুন্দর ও বৈষম্যহীন সমাজ গড়তে বাল্যবিবাহ নির্মূলের কোনো বিকল্প নেই। এজন্য কেবল আইন প্রয়োগ নয়; পরিবার, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, প্রশাসন এবং সমাজের সর্বস্তরের মানুষকে সচেতন হয়ে সম্মিলিতভাবে প্রতিরোধ গড়ে তুলতে হবে।
বক্তারা আরও উল্লেখ করেন, কন্যাশিশুদের অধিকার সুরক্ষা, তাদের জন্য নিরাপদ পরিবেশ সৃষ্টি, মানসম্মত শিক্ষা নিশ্চিত করা এবং মেধার পূর্ণ বিকাশে স্বাধীনতা দেওয়া রাষ্ট্রের অগ্রগতির জন্যই অপরিহার্য। উপযুক্ত সুযোগ ও সহমর্মিতা পেলে আজকের কন্যাশিশুরাই আগামী দিনে দেশ ও সমাজ পরিচালনায় অনন্য অবদান রাখবে।
অনুষ্ঠান শেষে জাতীয় কন্যাশিশু দিবস উপলক্ষে আয়োজিত বিভিন্ন প্রতিযোগিতায় অংশ নেওয়া বিজয়ী শিক্ষার্থীদের হাতে আকর্ষণীয় পুরস্কার তুলে দেন অতিথিরা। এর আগে বিদ্যালয় চত্বর থেকে একটি সচেতনতামূলক বর্ণাঢ্য র্যালি বের করা হয়। অনুষ্ঠানে বিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষার্থী, অভিভাবক ও স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত ছিলেন।
