ভুতুড়ে বিদ্যুৎ বিলে সরকার জনগণের রক্ত টেনে নিচ্ছে : রিজভী

প্রকাশিত: 2:49 PM, June 27, 2020
ছবি সংগৃহীত

ধলাই ডেস্ক: বিদ্যুতের ‘ভুতুড়ে’ বিলের মাধ্যমে সরকার সিরিঞ্জ দিয়ে জনগণের রক্ত টেনে নিচ্ছে বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম-মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী।

শনিবার (২৭ জুন) দুপুরে নয়াপল্টনে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে ‘ফিউচার অব বাংলাদেশ’র উদ্যোগে বিদ্যুৎ-জ্বালানির দাম বৃদ্ধি সংক্রান্ত বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন আইন (সংশোধন) বিল সংসদে উত্থাপনের প্রতিবাদে অনুষ্ঠিত এক মানববন্ধনে তিনি এ মন্তব্য করেন।

রিজভী বলেন, ‘বহু লোক আমাদের বলছেন যেখানে বিদ্যুৎ বিল হওয়ার কথা ১ হাজার থেকে ১২০০ টাকা। সেখানে ২০ হাজার থেকে ২৫ হাজার টাকা পর্যন্ত বিল আসছে। এই ভুতুড়ে বিল নিয়ে গণমাধ্যমে অনেক প্রতিবেদন ছাপা হয়েছে। সরকারের এদিকে কোনো ভ্রুক্ষেপ নেই, সরকার এদিকে তাকাচ্ছে না। তারা নির্লজ্জভাবে গায়ের জোরে আবার বছরে কয়েকবার বিদ্যুৎ ও জ্বালানি তেলের মূল্য বৃদ্ধি করছে।’

তিনি বলেন, ‘সিরিঞ্জে করে যেমন রক্ত টান দেয়- এই সরকার জনগণের শরীরে সিরিঞ্জ দিয়ে রক্ত টান দিচ্ছে এই বিদ্যুৎ-জ্বালানি তেলের দাম বৃদ্ধি করে। আমরা তীব্র প্রতিবাদ জানাচ্ছি, সরকার সংসদে বিল উপস্থাপন করেছেন।’

রিজভী বলেন, ‘তাদের (সরকার) টাকা দরকার। এই টাকা কোথায় যাচ্ছে জানেন? এটাও গতকাল বিভিন্ন পত্রিকায় বেরিয়েছে- ৫ হাজার কয়েক’শ কোটি টাকা সুইস ব্যাংকে জমা আছে। এই টাকা কার? এই টাকা মন্ত্রীদের, এই টাকা আমলাদের, এই টাকা ক্ষমতাসীন দলের লোকদের।

তিনি বলেন, ‘আজ ১১ থেকে ১২ বছর ধরে জনগণের এই টাকা আত্মসাৎ করে সুইস ব্যাংকে রেখে ফুলে-ফেঁপে একেবারে বিশাল মহিরুহে পরিণত করেছে তারা। এখন আরও টাকা দরকার, সুইস ব্যাংকে আরও কালো টাকা পাঠাতে হবে- এই লক্ষ্য নিয়ে বছরে কয়েকবার বিদ্যুৎ-জ্বালানি তেলের দাম তারা বৃদ্ধি করছে।’

করোনাভাইসরাস সংক্রমণ পরিস্থিতির কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, ‘মানুষ মরছে, অক্সিজেন সিলিন্ডার নেই, অক্সিমিটার নেই, চিকিৎসা নেই ঢাকার কয়েকটি হাসপাতাল ছাড়া। অনেক কথা হয়ত গণমাধ্যমে আসছে, কিন্তু সব আসছে না।’

রিজভী আহমেদ বলেন, ‘হাসপাতালে গিয়ে করোনা রোগী কোনো চিকিৎসা পাচ্ছেন না। কারণ জনগণের কষ্ট লাঘব করার কোনো কাজ তারা করেননি। বাংলাদেশের স্বাস্থ্য খাত ভেঙে গেছে, একেবারে ভঙ্গুর। মানুষ এখন কুকুর-বিড়ালের মতো রাস্তায় মারা যাচ্ছে। করোনা আক্রান্ত মানুষ রাস্তায় মারা যাচ্ছে- এটাই হচ্ছে শেখ হাসিনার উপহার, এটাই হচ্ছে আওয়ামী লীগ সরকারের উপহার।’

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ‘সম্রাটের মতো’ দেশ শাসন করছেন মন্তব্য করে বিএনপির এ মুখপাত্র বলেন, ‘কোনো এক দেশের সম্রাট বলেছিলেন, আই অ্যাম ‘ল, আমিই হলাম আইন। শেখ হাসিনা হলেন সেই সম্রাটের মতো। আমিই আইন, আমি যেটা বলব, সেটাই মানতে হবে। কিসের পার্লামেন্ট। এটা নিশি রাতের পার্লামেন্ট, জো ‘হুকুমের পার্লামেন্ট ‘

তিনি বলেন, ‘সরকার মনে করে আমি যেটা বলব সেটাই আইন। কেউ কিছু বললে লাল ঘরে পাঠিয়ে দেব, বেশি কথা বলো না, বেশি কথা বললে আমি একেবারে লাল ঘরে পাঠিয়ে দেব।’

রিজভী বলেন, ‘আমরা বলতে চাই, আমাদের বন্দী করবেন তারপরেও আমরা প্রতিবাদ করব। আমাদেরকে মামলা দেবেন, আমাদের কারাগারে নিয়ে যাবেন-আমরা তো প্রস্তুত সব সময়। কিন্তু আপনার অন্যায়-অবিচার-অত্যাচার-জুলুম আর এদেশের জনগণ কখনোই মেনে নেবে না।’

মানববন্ধনে মহানগর দক্ষিণের সহ-সভাপতি নবী উল্লাহ নবী, ফিউচার অব বাংলাদেশের শওকত আজিজ, সাজ্জাদুল হানিফ বক্তব্য রাখেন।

এ সময়ে সংগঠনের কেন্দ্রীয় নেতা কেজি সেলিম, ফয়সাল প্রধান, আহম্মেদ উল্লাহ, জুনায়েদ চৌধুরী, বাবু তানভীর প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন। তারা বিদ্যুতের ভুতুড়ে বিলের প্রতিবাদে বিভিন্ন প্ল্যাকার্ড বহন করে।