যে কারণে কাবার গিলাফ ভাঁজ করা হলো

প্রকাশিত: 9:42 PM, July 24, 2020
সংগৃহীত

ধর্ম ডেস্ক: বৈশ্বিক মহামারি নভেল করোনাভাইরাসের (কোভিড-১৯) কারণে ১৯ জুলাই আইসোলেশনের মাধ্যমে শুরু হয়েছে এবারের পবিত্র হজের কার্যক্রম।

সারা বিশ্ব থেকে প্রতি বছর প্রায় ২৫ লাখ লোক হজে অংশগ্রহণ করতো। কিন্তু এবারের হজ প্রাণঘাতী বৈশ্বিক মহামারি করোনার প্রাদুর্ভাবের কারণে মাত্র ১০ হাজার মানুষের অংশগ্রহণে অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে।

কাবা শরিফের গিলাফ নিচের অংশ তিন মিটার ভাঁজ করে উপরের দিকে উঠিয়ে রাখা হয়েছে। ভাঁজ করা অংশটুকু সাদা কাপড় দিয়ে ঢেকে দেয়া হয়েছে। অবশ্য ৯ জিলহজ তারিখে আরাফার দিন (হজের দিন) পুরনো এই গিলাফটি পরিবর্তন করে নতুন গিলাফ লাগানো হবে। খবর সৌদি গেজেটের ও আল-আরাবিয়া ডটনেট।

বুধবার খুব ভোরে প্রায় ৫০ জন দক্ষ কর্মী এ উত্তোলনের কাজে অংশ নেয়।

প্রতি বছর হজ মৌসুমে পবিত্র কাবার গিলাফকে এভাবে নীচ থেকে উপরের দিকে ভাঁজ করে রাখা হয়। এটা গিলাফের মূল অবয়ব রক্ষা ও পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার জন্য করা হয়।

পবিত্র কাবাঘরের গিলাফকে কিসওয়া বলা হয়। কিসওয়া তৈরির কারখানা মক্কা শরিফের উম্মুল জুদ এলাকায় অবস্থিত। কারখানার পরিচালক মোহাম্মদ বিন আবদুল্লাহ বাজাউদ জানিয়েছেন, পবিত্র কাবার গিলাফকে পরিচ্ছন্ন রাখার উদ্দেশ্যে প্রতিবছরই এভাবে গিলাফকে ভাঁজ করে উপরে তুলে রাখা হয়। কারণ অনেক হজযাত্রী কল্যাণ ও বরকত লাভের আশায় কাবার গিলাফ স্পর্শ করতে চায়। এমনকি অনেকে গিলাফের কিছু অংশ কেটেও নেয় সঙ্গে রাখার জন্য বা মৃত্যুর পর কাফনের সঙ্গে দিয়ে দেয়ার জন্য।

আবার অনেক হজযাত্রী কষ্ট করে হলেও ভীড় ঠেলে জীবন বিপন্ন করে গিলাফ স্পর্শ করে দোয়া-দরুদ পাঠ করার চেষ্টা করে থাকেন। ফলে অনেকের জন্য তাওয়াফ করা কষ্টসাধ্য হয়ে উঠে। তাই হজ মৌসুমে গিলাফটি তিন মিটার পর্যন্ত উপরে তুলে দেয়া হয়, যেন কেউ তা ষ্পর্শ করার চেষ্টা না করে।

মূলতঃ তাওয়াফের সময় অনেক হজযাত্রী কাবার গিলাফ স্পর্শ করাকে কল্যাণকর মনে করে থাকেন। যদিও আসলে কাবার গিলাফ স্পর্শ করা বা এটা ধরে দোয়া-মোনাজাত করার আলাদা কোনো ফজিলত নেই। তার পরও দেখা যায়, অনেক হজযাত্রী কাবাঘরের দেয়াল স্পর্শ করতে এমনকি তাতে নিজের রুমাল, জামা কাপড় স্পর্শ করাতে। যদিও ধর্মীয় চিন্তাবিদরা এমন কাজ করা থেকে মানুষকে বিরত থাকার পরামর্শ দিয়ে থাকেন।

উল্লেখ্য মহামারি করোনাভাইরাসের কারণে এবার কড়াকড়ি রয়েছে হজ পালনে। হজের সময় কাবা শরিফ স্পর্শ না করেই হজ আদায় করতে হবে হাজিদের। নামাজের সময় তো বটেই, কাবা শরিফ তাওয়াফের সময়ও দেড় মিটার দূরত্ব বজায় রেখে চলতে হবে।

১৯ জুলাই হজে অংশগ্রহণকারীদের ৭ দিনের আইসোলেশন শুরু হয়েছে। আগামী ২ আগস্ট পর্যন্ত হজের এ কার্যক্রম চলবে। এ সময়ের মধ্যে হজের রোকন তথা মিনা, মুজদালিফা ও আরাফায় বিনা অনুমতিতে প্রবেশাধিকারে ১০ হাজার রিয়াল জরিমানার ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। যথাযথ স্বাস্থ্য নিরাপত্তার মাধ্যমেই এবার হাজিদের হজের কার্যক্রম চালাতে হবে।