সার্বক্ষনিক সাব-রেজিস্ট্রার নেই, ভোগান্তীতে কমলগঞ্জবাসী

প্রকাশিত: 5:42 PM, November 16, 2020
ধলাইর ডাক

কমলগঞ্জ প্রতিনিধি: প্রায় ১মাস ধরে বন্ধ ছিলো জমি রেজিস্ট্রী কার্যক্রম। এতে ভোগান্তীতে পড়েছেন শত শত ভূমি ক্রেতা ও বিক্রেতারা। মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জের সাব-রেজিস্ট্রী অফিসের সাব-রেজিস্ট্রার না থাকায় ভূমি ক্রেতা ও বিক্রেতাদের লাগামহীন ভোগান্তি ফোহাতে হচ্ছে। জমি ক্রেতা-বিক্রেতাদের ভোগান্তির পাশাপাশি সরকারও হারাচ্ছে বিপুল পরিমাণ রাজস্ব। এছাড়া এ অফিসের সঙ্গে জড়িত প্রায় অর্ধ-শতাধিক দলিল লেখক বেকার সময় পার করছেন।
জানা যায়, কমলগঞ্জ উপজেলা সাব-রেজিস্ট্রার আব্দুল কাদির চলিত বছরের অক্টোবর মাসে এখান থেকে বদলি হওয়ার পর আর কোনো সাব-রেজিস্ট্রার এখানে পদায়ন করা হয়নি। রেজিস্ট্রি না হওয়ায় এ উপজেলার শত শত জমি ক্রেতা-বিক্রেতা ও জরুরি কাজে দলিল উত্তোলনকারীরা চরম ভোগান্তির মধ্যে পড়েছেন।
এদিকে, গত ৫নভেম্বর জুড়ি উপজেলার সাব-রেজিস্ট্রার মঞ্জুরুল আমিনকে কমলগঞ্জের সাব-রেজিস্ট্রী অফিসের অতিরিক্ত দায়িত্ব দেওয়া হয়। কমলগঞ্জ উপজেলা সাব-রেজিস্ট্রারের পদ শূণ্য থাকায় জুড়ি উপজেলার সাব-রেজিস্ট্রার মঞ্জুরুল আমিন সপ্তাহে দুই দিন অফিস করেন। ১ম কর্মদিবস বৃহস্পতিবার(৫ নভেম্বর) প্রায় দেড় শতাধিক ভূমি রেজিস্টেশন করেন তিনি। বৃহস্পতিবারের পর থেকে আবারো বন্ধ থাকে ভূমি রেজিস্টেশনের কার্যক্রম। প্রায় ১০দিন পর রবিবার (১৫ নভেম্বর) তিনি অফিস করেন।
রবিবার সন্ধ্যায় সরেজমিনে কমলগঞ্জ সাব-রেজিস্ট্রি অফিসে গেলে দেখা যায়, ভূমি রেজিস্টেশনের জন্য শত শত মানুষ অপেক্ষার প্রহর গুনছেন। সকাল ১০টা থেকে ভোক্তভোগী মানুষ অপেক্ষা করছেন সাব-রেজিস্ট্রারের জন্য। কিন্তু মঞ্জুরুল আমিনের মৌলভীবাজারে একটি জরুরি মিটিং থাকায় তিনি বিকাল সাড়ে ৩টায় এসে অফিস শুরু করেন। সকাল থেকে রাত অবধি মানুষ অপেক্ষা করছেন দলিল পাওয়ার আশায়। তবে করোনার প্রাদুর্ভাব ঠেকাতে সরকারের নেওয়া “নো মাস্ক, নো সার্ভিস” নীতির বাস্তব কার্যক্রম দেখা যায়নি কমলগঞ্জ সাব-রেজিস্ট্রি অফিসে। অধিকাংশ ভূমি ক্রেতা ও বিক্রেতা মাস্ক ছাড়াই জমি রেজিস্টেশন করছেন। শুধু ক্রেতা বিক্রেতাই নয় নকলনবীশ লেখক ও দলিল লেখকরাও মাস্ক ছাড়াই ঘুরাফেরা করছেন।
ভুক্তভোগী জালালিয়া গ্রামের মোঃ আহমদ আলী, কেচুলিটি গ্রামের আব্দুর রব, কাজিরগাঁও গ্রামের মালিক মিয়া, গোপীনগর গ্রামের মহরজান বিবি, ধর্মপুর গ্রামের মদন কর, গোপীনগর গ্রামের ময়ূর বেগম, শ্রীপুর গ্রামের সরলা বেগম, ঠাকুর বাজার গ্রামের এখলাছুর রহমান সাথে আলাপকালে এ প্রতিনিধিকে জানান, তারা সকাল থেকে জমি রেজিস্ট্রির জন্য অপেক্ষা করছেন। কখন জমি রেজিস্ট্রি করে বাড়ি ফিরবেন তা নিয়ে তারা বেশ চিন্তায় পরে গেছেন। আদু আজ জমি রেজিস্টেশন করতে পারবেন কিনা তা নিয়ে দীর্ঘশ^াস ফেলেন। একটি মিটিং শেষ করে সাব-রেজিস্ট্রার আসতে দেরি হওয়ায় তাদের দীর্ঘসময় অপেক্ষা করতে হয়েছে। দীর্ঘ অপেক্ষা করেও যদি তারা জমি রেজিস্ট্রি করে দলিল হাতে পান তাতেই তারা খুশি। এছাড়া এখানে একজন সাব-রেজিস্ট্রার পদায়নের দাবি জানান তারা।
কুলাউড়া থেকে এই অফিসে জমি রেজিস্ট্রি করতে আসা মিহির দেব জানান, দুর্ঘটনার কবলে আমার পা ভেঙ্গে গেছে। ভাঙ্গা পা নিয়ে সকাল থেকে এ অফিসে এসে অপেক্ষা করছি ভূমি রেজিস্ট্রির জন্য।
এ ব্যাপারে কমলগঞ্জ দলিল লিখক সমিতির সাধারণ সম্পাদক হাজ্বী মো: ইজ্জাদুর রহমানের সাথে আলাপকালে তিনি জানান, এ সমতিরি ৪৭ জন দলিল লিখক কয়েকশত দলিল রেজিষ্ট্রীর অপেক্ষায় ছিলো। আমাদের এখানে সার্বক্ষনিক সাব-রেজিস্ট্রার না থাকায় ভোক্তভোগী ক্রেতা বিক্রেতারা ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন। এখানে একজন সাব রেজিস্ট্রার নিয়োগ দেওয়া আবশ্যক হয়ে পরেছে। তিনি দাবী জানান, বর্তমানে অতিরিক্ত দায়িত্বে থাকা সাব রেজিস্টার মঞ্জুরুল আমিনকে কমলগঞ্জের সাব রেজিষ্ট্রার হিসেবে নিয়োগ দেওয়ার জন্য।
এ ব্যাপারে মৌলভীবাজার জেলা দলিল লিখক সমিতির সভাপতি আব্দুল মছব্বির সাথে আলাপ করলে তিনি জানান, কমলগঞ্জে ভূমি ক্রেতা বিক্রেতাদের ভোগান্তীর মাত্রা দুর্বিসহ হয়ে পড়েছে । কমলগঞ্জে সার্বক্ষনিক সাব রেজিষ্ট্রার না দিলে এ ভোগান্তি দীর্ঘদিনের হয়ে দাঁড়াবে। তিনি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নিকট দাবি জানান যাতে বর্তমানে অতিরিক্ত দায়িত্বে থাকা সাব রেজিস্টার মঞ্জুরুল আমিনকে কমলগঞ্জের সাব রেজিস্ট্রার হিসেবে নিয়োগ দেওয়া জন্য।
এ ব্যাপারে মঞ্জুরুল আমিনের সাথে যোগাযোগ করলে তিনি জানান, কমলগঞ্জ সাব-রেজিস্ট্রি অফিসের সাব-রেজিস্ট্রার না থাকায় আমাকে অতিরিক্ত দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। সপ্তাহে দুই দিন রবিবার ও সোমবার কমলগঞ্জে সাব-রেজিস্ট্রি অফিসে দায়িত্ব পালন করব। আরেকটি প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন, আমরা চেষ্ঠা করছি সকলকে স্বাস্থ্য সচেতন করতে। যারা এখানে ভূমি রেজিস্ট্রি করতে আসবেন তাদেরকে অবশ্যই মাস্ক পরিধান করে আসতে হবে। আগামী মাস্ক ছাড়া কারো ভূমি রেজিস্ট্রি করা হবে না।