ধলাই ডেস্ক: মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জ উপজেলার একটি চা বাগানে সড়কের পাশে সরকারী আকাশমনি গাছ কাটাকে কেন্দ্র করে হেলন মিয়া (৩৪) নামের এক যুবকের রহস্যজনক মৃত্যু হয়েছে।
গত বৃহস্পতিবার সেহরির সময় উপজেলার মাধবপুর ইউনিয়নের শ্রী গোবিন্দপুর চা বাগান এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় রুমান মিয়া নামে আরও একজন গুরতর আহত হয়ে সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছে। ঘটনাটি ঘিরে এলাকায় চাঞ্চল্য ও উত্তেজনা বিরাজ করছে।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সেহরির সময় ৫/৬ জনের একটি দল চা বাগানের খেলার মাঠ সংলগ্ন ফিসারীর পাশে থাকা সরকারী একটি আকাশমনি গাছ কাটছিল। এক পর্যায়ে কাটা গাছটি ফিসারীতে পড়ার শব্দ শুনে বাগানের নৈশপ্রহরীরা ঘটনাস্থলে ছুটে যায়। এ সময় উপস্থিত কয়েকজন পালিয়ে গেলেও রুমান ও হেলনকে তাড়া করে নৈশপ্রহরীরা একপর্যায় মায়াবড়ি নারী চা শ্রমিকের বাড়ীর পাশে কাসেম মিয়ার পুকুরে ফেলে রুমানকে ধরে ফেলে নৈশপ্রহরীরা পরে তাকে বাগান কার্যালয়ে নিয়ে গিয়ে বেধড়ক মারধর করে বেধে রাখা হয়।
ঘন্টা খানেক পর অন্য নৈশপ্রহরীরা হেলনের মৃত্যুর কথা ব্যবস্থাপককে জানায়। হেলেনের মৃত্যুর খবর পেয়ে নৈশপ্রহরী সুন্দর আলীকে দিয়ে গুরুতর আহত রুমানকে তার বাড়িতে পাঠিয়ে দেন বলে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে এমনটাই জানান বাগান ব্যবস্থাপক প্রশান্ত কুমার।
এদিকে গাছ কাটতে যাওয়া দু ‘ একজন জানায়, হেলন এবং রুমান দুজনকেই চৌকিদাররা ধরে ফেলে আমরা পালিয়ে যেতে সক্ষম হয়েছি।
বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় নিহতের মা বেগমের সাথে আলাপ কালে তিনি বলেন ঘটনার রাতে আমার ছেলে হেলনকে রুমান,জমশেদ আরো দু’ তিনজন বাহিরে রাস্তায় দাড়ানো ছিল। আমি জিজ্ঞাসা করলে আমার ছেলে জানায় বন্ধু রুমানদের সাথে ভানুগাছ বাজারে যাচ্ছে। সারারাত অপেক্ষার পর সকালে শুনি আমার মৃত্যুর সংবাদ। আমার ছেলেকে পরিকল্পিত ভাবে হত্যা করা হয়েছে।
অন্যদিকে নিহত হেলন মিয়ার পরিবারের অভিযোগ, তাকে আটক করার পর শ্বাসরুদ্ধ করে হত্যা করা হয়েছে। তাদের দাবি, ঘটনাস্থলেই তাকে হত্যা করে মরদেহ টেনে অন্যত্র ফেলে রাখা হয়। স্থানীয়দের কেউ কেউ মরদেহ টেনে নেওয়ার কিছু আলামত দেখেছেন বলেও জানিয়েছেন।
পরে সকালে খবর পেয়ে বাগানের নতুন লাইনে মায়াবড়ি নামের এক নারী চা শ্রমিকের বাড়ির আঙিনার পাশ থেকে হেলন মিয়ার মরদেহ কমলগঞ্জ থানা পুলিশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য মৌলভীবাজার সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠায়।
এব্যপারে বৃহস্পতিবার রাত সাড়ে ১০ টায় নিহতে ভগ্নিপতি তাজুল ইসলাম কমলগঞ্জ থানায় উপস্থিত হয়ে অজ্ঞাত ছয়,সাতজনকে আসামী করে অভিযোগ দায়ের করেছেন।
জানা গেছে, সংশ্লিষ্ট চা বাগানটির মালিক মৌলভীবাজার জেলা বিএনপির সদস্য ও শ্রীমঙ্গল পৌরসভার সাবেক মেয়র মো. মহসিন মিয়া মধু। বাগানের ব্যবস্থাপক প্রশান্ত কুমার বলেন, “আটক ব্যক্তিকে অফিসে নিয়ে রাখতে বলা হয়েছিল। পরে জানতে পারি একজন মারা গেছেন। তবে যে গাছটি কাটা হচ্ছিল সেটি বাগানের নয়, সরকারি গাছ হওয়ায় আমরা তাকে ছেড়ে দিয়েছি।”
এ বিষয়ে কমলগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (তদন্ত) মো. গোলাম মোস্তফা বলেন, “এটি স্বাভাবিক মৃত্যু নাকি হত্যা তা এখনই নিশ্চিতভাবে বলা যাচ্ছে না। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, দৌড়ে পালানোর সময় স্ট্রোক করে মৃত্যু হয়ে থাকতে পারে। প্রকৃত কারণ জানতে ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়ার পর ঘটনার প্রকৃত রহস্য উদঘাটনের পর প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
উল্লেখ্য, কয়েক দিনের ব্যবধানে বর্তমানে যে আকাশমনি গাছটি কাটা হয়েছে তার পাশেই আরো বেশ কয়েকটি আকাশমনি গাছ কেটে নেওয়া হয়েছে, এছাড়াও একমাসে অত্র চা বাগানের আশপাশ এলাকার সড়কে অবস্থিত কয়েক লক্ষ টাকার সরকারী শতাধিক মূল্যবান আকাশমনি গাছ চোরচক্র কেটে নিয়ে যায় নৈশপ্রহরীদের নাকের ঢকা থেকে। এত দামী দামী গাছ পাচার হয়েছে এই নৈশপ্রহরীদের যোগসাজেসে হয়েছে বলে দাবী এলাকাবাসীর। এলাকাবাসীর দাবী এই গাছ কাটা,হেলনের মৃত্যু, রুমানের আহত হওয়ার পেছনে লেনদেনের কোন কারণ হতে পারে, এটা স্বচ্ছ তদন্ত করলেই বের হয়ে আসবে আসল ঘটনা।

