কুরিয়ারে ইয়াবার চালান! দুই মাদক ব্যবসায়ী গ্রেফতার

প্রকাশিত: ১০:১৯ অপরাহ্ণ, মে ১৯, ২০১৯

ডেস্ক রিপোর্ট: ঝিনুকের তৈরি কানের দুল ও মাথার চুলের ক্লিপের অলঙ্কারের কার্টনে এক লাখ পিসের ইয়াবার চালান আনা হয় । কক্সবাজার থেকে এসএ পরিবহনের মাধ্যমে ইয়াবার চালান পার্সেল করে দুই মাদক ব্যবসায়ী উঠে পড়েন বিমানে। ঢাকায় নেমে একদিন পর আজ ইয়াবার চালান আনতে গিয়েই ধরা পড়েন র‌্যাবের জালে।

রোববার দুপুরে উত্তরার ৬ নম্বর সেক্টরে আলাওল অ্যাভিনিউয়ের ২০ নম্বর বাড়ির এসএ পরিবহনের অফিসে অভিযান চালিয়ে এক লাখ পিস ইয়াবা জব্দসহ দুই মাদক ব্যবসায়ীকে হাতেনাতে গ্রেফতার করেন র‌্যাব সদস্যরা।

দুপুর আড়াইটায় ঘটনাস্থলে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান, র‌্যাব-৩-এর অধিনায়ক (সিও) লে. কর্নেল এমরানুল হাসান।

তিনি বলেন, ঈদ উপলক্ষে ইয়াবার বড় চালান ঢাকায় আসবে এমন তথ্যের ভিত্তিতে রাজধানীর উত্তরা এলাকায় নজরদারি বাড়ানো হয়। উত্তরায় এসএ পরিবহনের পার্সেল রিসিভ করতে আসা মীর কাশেম (৩১) ও মোরশেদ আলী (৩৩) নামে দুই মাদক ব্যবসায়ীকে হাতেনাতে গ্রেফতার করা হয়।

লে. কর্নেল এমরানুল হাসান বলেন, গত ১৭ মে সন্ধ্যায় কক্সবাজারের লাবণী বিচ এলাকার এসএ পরিবহনের কুরিয়ার সার্ভিসে ঝিনুকের তৈরি কানের দুল ও মাথার চুলের ক্লিপের অলঙ্কারের কার্টনে ওই ইয়াবার চালান বুকিং করেন মাদক ব্যবসায়ীরা। তাদের উদ্দেশ্য ছিল ঢাকা থেকে ওই পার্সেল গ্রহণ করবেন। এ জন্য তারা শনিবার বিকেলে বিমানে করে ঢাকায় অবতরণ করেন। অনেক সতর্কতার সঙ্গে পার্সেল রিসিভ করতে এসেও র‌্যাবের জালে আটকা পড়েন মাদক ব্যবসায়ী কাশেম ও মোরশেদ।

তিনি আরও বলেন, মাদক পরিবহনে কুরিয়ার সার্ভিসের অবশ্যই গাফিলতি আছে। এসএ পরিবহনের বিরুদ্ধে এর আগেও ইয়াবা পরিবহনের অভিযোগ উঠেছে, ধরাও পড়েছে। পরিবহন যখন হয় তখন যে নামেই পরিবহন হোক না কেন স্ক্যানারের মাধ্যমে দেখা উচিত। কেউ বিস্ফোরক পাঠালেই কি তা পরিবহন করবে? মাদক থাকলেও পাঠাবে?

র‌্যাব-৩ এর সিও বলেন, এসএ পরিবহনসহ সকল কুরিয়ার সার্ভিসকে সতর্ক থাকা উচিত। আমাদের পোস্টাল যে অ্যাক্ট আছে তা দিয়েই এসব কুরিয়ার চলে। সেখানে স্পষ্ট আছে যে, যেগুলো সরকার কর্তৃক অবৈধ তা পরিবহন করতে পারবে না। কিন্তু সেটার এক্ষেত্রে ব্যত্যয় ঘটেছে। এই ঘটনায় মামলাটি তদন্তভার র‌্যাব গ্রহণ করবে। এরপর থেকে আমরা এসএ পরিবহনসহ অন্যান্য কুরিয়ার সার্ভিসকেও মনিটরিংয়ের আওতায় নিয়ে আসব।

লাবণী বিচ থেকে যে কুরিয়ার শাখা থেকে পাঠানো হয়েছে সেখানে কুরিয়ার প্রতিষ্ঠানটির অন্য কারও সংশ্লিষ্ট আছে কি না জানতে চাইলে তিনি বলেন, আমরা ওখানকার কুরিয়ার শাখার সিসিটিভি ফুটেজ চেয়েছি। আমরা খতিয়ে দেখব কে বা কারা ওই পার্সেলটি পাঠিয়েছে। তবে এটা স্পষ্ট যে সেখানে গাফিলতি ছিল, অনিয়ম আছে। এই অনিয়ম কেন কারা কীভাবে করছে তা খতিয়ে দেখব। আইন অনুযায়ী কুরিয়ার সার্ভিস অপারেট করা হচ্ছে কি না তা খোঁজ রাখা হবে।

এক প্রশ্নের উত্তরে র‌্যাব-৩ সিও বলেন, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে জানা যায়, তারা ইতিপূর্বে কয়েকবার কক্সবাজার হতে বড় কার্টনে করে বিভিন্ন পণ্যসামগ্রীর আড়ালে ইয়াবার চালান এসএ পরিবহনসহ বিভিন্ন কুরিয়ার সার্ভিসে ঢাকায় পাঠায় এবং তারা আকাশ পথে ঢাকায় এসে এসব পার্সেল রিসিভ করে। গ্রেফতারকৃতদের সঙ্গে জড়িত সহযোগীদের গ্রেফতারের চেষ্টা চলছে।