সুনামগঞ্জে বন্যা পরিস্থিতির অবনতি

প্রকাশিত: 9:15 PM, July 13, 2020
সংগৃহীত

ধলাই ডেস্ক: সুনামগঞ্জে দ্বিতীয় দফায় টানা বর্ষণ ও সীমান্তের ওপার থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলে হাওরাঞ্চলে বন্যা পরিস্থিতির চরম অবনতি হয়েছে। জেলার তাহিরপুর, জামালগঞ্জ, ধর্মপাশা, দিরাই, শাল্লা, বিশ্বম্ভরপুর উপজেলাসহ দুর্গম হাওর এলাকায় বন্যা দেখা দিয়েছে। বাড়ির আঙিনাগুলো ৫ থেকে ৬ ফুট পানিতে তলিয়ে আছে। বন্যাকবলিত মানুষ চৌকিতে কোনো রকমে দিনাতিপাত করছেন।

বন্যা কবলিত লোকজন কোমর পানিতে হেঁটে দূরদূরান্তের টিউবওয়েল থেকে বিশুদ্ধ পানি সংগ্রহ করছেন। কেউ কেউ আবার নিকটস্থ আশ্রয় কেন্দ্রগুলোতে পরিবার পরিজন ও গবাদি পশুসহ আশ্রয় নিয়েছেন।

টাংগুয়ার হাওর পাড়ের বাসিন্দা সাবজল আহমেদ জানান, হাওর এলাকার বসতবাড়ির তিল পরিমান জায়গা নেই। যেখানে বন্যার পানি প্রবেশ করেনি। যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হাওর এলাকার প্রত্যন্ত গ্রামগুলোতে দেখা দিয়েছে শুকনো খাবারের সংকট।

তাহিরপুর উপজেলার উত্তর শ্রীপুর ইউপির চিলানি তাহিরপুর গ্রামের বাসিন্দা হাদিউজ্জামান জানান, রান্নাঘর, বসতঘর পানিতে নিমজ্জিত হওয়ায় কেউ রান্না করে খাবার খেতে পারছে না। থেমে থেমে বর্ষণের কারণে গ্রামের লোকজন কর্মহীন ঘরে বসে দিন কাটাচ্ছেন। দুর্গত মানুষেরা ত্রাণ পাওয়ার আশায় প্রহর গুনছেন।

জেলার সচেতন মহল জানান, পুরো হাওর এলাকায় এখন দুর্যোগ নেমে এসেছে। বসতঘরগুলোর চারপাশে অথৈ পানি। দিনমজুর, জেলে ও শ্রমজীবী নারী পুরুষ সবাই বেকার হয়ে আছেন। দিশাহারা হাওরাঞ্চলে মানুষ।

দুর্গম হাওর এলাকায় ত্রাণ সামগ্রী দেয়ার জন্য সরকারি বেসরকারি ত্রাণ তৎপরতা বাড়ানো ও সমাজের বিত্তবানদের ত্রাণ কার্যে অংশ নেয়ার আহ্বান জানান তারা।

জেলা প্রশাসনের বন্যা নিয়ন্ত্রণ কক্ষ সূত্রে জানা যায়, জেলার ১১ টি উপজেলা ও চারটি পৌরসভার ৩৫২টি আশ্রয় কেন্দ্রে ২ হাজার ২৯৭ টি পরিবারের ৯ হাজার ১৯৩ জন আশ্রয় নিয়েছেন।

ক্ষতিগ্রস্তদের মধ্যে ৮৫৫ মেট্রিক টন চাল, ১ কোটি ৩০ লাখ ৯২ হাজার টাকা ও ২ হাজার ১০০ প্যাকেট শুকনো খাবার বিতরণ করা হয়েছে। এছাড়া ২ লাখ টাকার গবাদি পশু খাদ্য বিতরণ করা হয়েছে।

আশ্রয় কেন্দ্রগুলোতে ৬৬২ টি গবাদি পশু নিরাপদ আশ্রয়ে রয়েছে। এছাড়া প্রতিটি ইউনিয়ন ও পৌরসভায় একটি করে মেডিকেল টিম স্বাস্থ্য সেবার কাজে নিয়োজিত রয়েছে।

তাহিরপুর ইউএনও পদ্মাসন সিংহ জানান, শনিবার ও রোববার উপজেলার সদর ইউপি ও দক্ষিণ শ্রীপুর ইউপিতে জরুরি ভিত্তিতে সৃষ্ট বন্যায় ক্ষতিগ্রস্তদের মধ্যে শুকনো খাবার সরবরাহ করা হয়েছে।

স্থানীয় এমপি ইঞ্জিনিয়ার মোয়াজ্জেম হোসেন রতন বলেন, বন্যা কবলিত মানুষদের জন্য প্রয়োজন অনুযায়ী সব ধরনের ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে। যাতে কোনো মানুষ বন্যায় কষ্ট না করে সেদিকে বিশেষ খেয়াল রাখা হচ্ছে।

ডিসি মোহাম্মদ আব্দুল আহাদ বলেন, বন্যা পরিস্থিতি গভীরভাবে পর্যবেক্ষণ করে পর্যাপ্ত ত্রাণ সামগ্রী বিতরণ করছে প্রশাসন। বন্যা কবলিতদের জন্য প্রতিটি উপজেলায় নিয়ন্ত্রণ কক্ষ খোলা হয়েছে।

ইউএনওরা মাঠে কাজ করে বন্যায় ক্ষতিগ্রস্তদের জন্য প্রয়োজনীয় সব প্রদক্ষেপ গ্রহণ করছেন।