অনলাইন ডেস্ক:
কেউ পছন্দ করেন সেদ্ধ চালের ভাত, আবার অনেকে ভালোবাসেন আতপ চাল। আতপ চালের ভাত হালকা, ঝরঝরে এবং খেতে মজাদার হয়। তবে স্বাদ ছাড়াও স্বাস্থ্যগত দিক থেকেও চালের পার্থক্য গুরুত্বপূর্ণ।
তৈরির প্রক্রিয়ার পার্থক্য
ধানকে সরাসরি শুকিয়ে, তুষ ছাড়িয়ে যে চাল পাওয়া যায়, তাকে বলা হয় আতপ চাল। অন্যদিকে ধানকে ভিজিয়ে, হালকা ভাপে সিদ্ধ করে তারপর শুকিয়ে যে চাল তৈরি হয়, তাকে বলা হয় সেদ্ধ বা সিদ্ধ চাল। এই প্রক্রিয়াগত পার্থক্যই দুই চালের পুষ্টিগুণে বড় ভিন্নতা তৈরি করে।
পুষ্টির দিক থেকে তুলনা
পুষ্টিবিদদের মতে, সেদ্ধ চাল পুষ্টিগুণে এগিয়ে। ধান সিদ্ধ করার সময় তুষে থাকা ভিটামিন বি, পটাশিয়ামসহ অন্যান্য খনিজ উপাদান চালের ভেতরে প্রবেশ করে। ফলে এতে ক্যালসিয়াম, ম্যাগনেসিয়াম এবং ফাইবারের পরিমাণ বেশি থাকে।
সেদ্ধ চালের গ্লাইসেমিক ইনডেক্স আতপ চালের তুলনায় কম। অর্থাৎ এটি রক্তে শর্করার মাত্রা দ্রুত বৃদ্ধি করে না। আতপ চালের প্রক্রিয়াজাতকরণের সময় এর ওপরের পুষ্টিকর স্তর কিছুটা হারিয়ে যায়, ফলে এটি মূলত কার্বোহাইড্রেটের উৎস হয়ে দাঁড়ায়, কিন্তু ফাইবার ও ভিটামিন কম থাকে।
কাদের জন্য কোন চাল ভালো আসুন জেনে নেওয়া যাক –
১. ডায়াবেটিস রোগীদের জন্য
রক্তে শর্করা নিয়ন্ত্রণে রাখতে সেদ্ধ চাল বা ব্রাউন রাইস ভালো বিকল্প। এতে থাকা রেজিস্ট্যান্ট স্টার্চ ধীরে ধীরে গ্লুকোজ নিঃসৃত করে। আতপ চাল দ্রুত হজম হওয়ায় রক্তে সুগার বাড়াতে পারে।
২. হজম সমস্যা থাকলে
আতপ চাল হালকা ও সহজপাচ্য। ছোট শিশু, বয়স্ক ব্যক্তি বা যাদের পেট সংক্রান্ত সমস্যা আছে, তাদের জন্য আতপ চাল আরামদায়ক। সেদ্ধ চাল হজম হতে কিছুটা সময় নেয়।
৩. ওজন নিয়ন্ত্রণে
যারা ওজন কমাতে চান, তাদের জন্য সেদ্ধ চাল উপকারী। এতে থাকা ফাইবার দীর্ঘক্ষণ পেট ভরা রাখে, ফলে অতিরিক্ত খাওয়ার প্রবণতা কমে।
৪.হার্ট ভালো রাখতে
সেদ্ধ চালে থাকা পটাসিয়াম ও ম্যাগনেসিয়াম হৃদযন্ত্রের জন্য উপকারী। তাই হার্টের রোগীদের জন্য আতপের চেয়ে সেদ্ধ চাল ভালো।
স্বাদের পার্থক্য
আতপ চাল ঝরঝরে ও সুগন্ধি। পোলাও, বিরিয়ানি বা পায়েসে এর জুড়ি নেই। সেদ্ধ চাল তুলনামূলক মোটা ও কম সুগন্ধি হলেও প্রতিদিনের খাবারে এটি বেশি তৃপ্তিদায়ক।
কোনটি খাবেন
শুধু স্বাদ এবং ঘ্রাণ চাইলে আতপ চাল খেতে পারেন। তবে দীর্ঘমেয়াদি স্বাস্থ্য, ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণ ও পুষ্টি বিবেচনা করলে সেদ্ধ চালই তুলনামূলক ভালো বিকল্প। স্বাস্থ্য সচেতন ব্যক্তি ও পরিবারের জন্য দৈনন্দিন খাবারে সেদ্ধ চাল বেছে নেওয়াই বুদ্ধিমানের কাজ।
সূত্র: হিন্দুস্তান টাইমস
