ধোয়া উঠা গরম ভাপা পিঠার মজাই আলাদা

প্রকাশিত: ৯:৪৫ অপরাহ্ণ, জানুয়ারি ৩১, ২০২৩

স্টাফ রিপোর্টার: শীতে সন্ধ্যায় সুস্বাধু ও মুখরোচক ভাপা পিঠা নতুন চালের মন মাতানো গন্ধে ভরে উঠা সন্ধ্যায় ধোয়া উঠা গরম ভাপা পিঠার স্বাদ পেতে নামার পর পর  ভিড় করেন বিভিন্ন বয়সের নানা শেণী পেশার মানুষগুলো ।

শহরের ফুটপাত, সড়কের মোড়ে ভ্রাম্যমাণ দোকানগুলোতে। ঘন কুয়াশা যখন শীত নামে। তখন  সন্ধ্যার আগেই শহর গ্রামের রাস্তার ধারে পিঠা বানানোর আয়োজন শুরু করে দেন মৌসুমি বিক্রেতারা বিভিন্ন ভ্রাম্যমাণ স্থানগুলোতে। হিম ঠান্ডায় জমে উঠেছে ভাপা পিঠা বিক্রি। হাট-বাজারগুলোতে ভাপা পিঠার পাশাপাশি অন্যান্য নানান ধরনের পিঠাও বিক্রি হয়। সন্ধ্যা থেকে রাত পর্যন্ত চলে পিঠা বিক্রি ও খাওয়ার পালা। গরম পানির তাপে (ভাপে) এ পিঠা তৈরি হয় বলে একে ভাপা পিঠা বলা হয়।

একটি পিঠা বানাতে ২ থেকে ৩ মিনিট সময় লাগে। ছোট একটি গোল পাত্রের মধ্যে চালের গুড়া, নারকেল ও গুড় মিশিয়ে পাতলা কাপড়ের আবরণে ঢাকনার মুখে রাখা হয়। পানির হালকা গরম তাপে নিমিষেই সিদ্ধ হয়ে যায় নতুন চালের মজাদার ভাপা পিঠা।

পিঠা বিক্রেতারা মালেক মিয়া জানান এখানে খেজুরের গুড় কম পাওয়া যায় তাই, আখের গুড় ও নতুন চালের গুড়া দিয়ে ভাপা পিঠা বানানো হয়। ছোট্ট একটি চুলা দিয়ে সহজেই বানানো যায়।  এ পিঠাকে আরো সুস্বাধু ও মুখরোচক করতে নারকেল ও গুড় ব্যবহার করা হয়। পিঠা তৈরিতে একটি পাতিল ও ঢাকনা ব্যবহার করা হয়। জলন্ত চুলার উপর পাতিলে পানি দিয়ে ঢাকনার মাঝখানটা ছিদ্র করে পাত্রের মুখে দিতে হয়। এসময় ঢাকনার চারপাশে আটা, চালের গুড়ি ও কাপড় দিয়ে একটু শক্ত করে মুড়ে দেওয়া হয়। যাতে করে গরম পানির ভাপ বের হতে না পারে। প্রতি পিস পিঠা ১০ টাকায় বিক্রি হয়।

আবার কেউ কেউ পাতিলের মুখে পাতলা কাপড় বেঁধে দেন। পানি গরম হলে পাতিলের উপর রাখা কাপড়ে ছোট পাত্রে পিঠা দেয়া হয়। উপরে দিয়ে দেয়া হয় পাতিলের ঢাকনা। এ পদ্ধতিতে একসাথে অনেকগুলো পিঠা তৈরি করা যায়।

ভানুগাছ, উপজেলা চৌহমুনা, শমশেরনগর, আদমপুর সড়কের পাশেই দেখা মেলে অস্থায়ী দোকানে ভাপা পিঠা বিক্রি।

 

এছাড়া গ্রামের বিভিন্ন বাজার হাটে দেখা মেলে ভাপা পিঠার দোকান। ভাপা পিঠা বিক্রেতা শামিম হোসেন জানান, অন্যান্য সময়ে তিনি কৃষি কাজে শ্রমিক হিসাবে কাজ করেন। শীতের সময় এলেই তিনি ভাপা পিঠা বিক্রি করেন। সল্প পুঁজিতে বেশ কিছু টাকা আয় করা যায় কোনদিন হাজার টাকাও পেরিয়ে যায়। বিক্রেতা কদ্দুছ মিয়া বলেন- আমি সকাল-সন্ধ্যা পিঠা বিক্রি করি। কম টাকায় ভাপা পিঠার খেতেও মজা তাই মানুষজন ভিড় করেন পিঠা খেতে। অনেকে আবার পিঠা কিনে নিয়ে যায় প্রিয়জনের জন্য।

ভানুগাছ চৌহমুনায় ভাপা পিঠা খেতে আসা কাপড় ব্যবসায়ী মালেক মিয়া, চাকুরীজীবি হাসান, কলেজ ছাত্র ফাহমিদ, তানিম জানান শীতের সময় ভাপা পিঠা খাওয়ার মজাই আলাদা।  আমাদের দেশে শীতের সাথে পিঠার যে একটা সম্পর্ক তা শীতকাল এলে আরও বেশি বেড়ে যায়, ভাপা পিঠা খাওয়ার মধ্যেই বোঝা যায়।