মৌলভীবাজারে মামলা প্রত্যাহারে হুমকির অভিযোগ প্রবাসীর স্ত্রীর

প্রকাশিত: ৮:২২ অপরাহ্ণ, সেপ্টেম্বর ৯, ২০২৬

ধলাই ডেস্ক: মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জে বাড়ির সীমানায় বাউন্ডারি দেয়াল নির্মাণকে কেন্দ্র করে হামলা, মারধর ও লুটপাটের মামলার পর তা প্রত্যাহারে হুমকি দেওয়ার অভিযোগ করেছেন প্রবাসীর স্ত্রী মুন্নি আক্তার। বুধবার (৯ সেপ্টেম্বর) দুপুরে কমলগঞ্জ সাংবাদিক সমিতির ইউনিট কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ অভিযোগ করেন।

লিখিত বক্তব্যে মুন্নি আক্তার বলেন, তাঁর স্বামী প্রবাসে থাকায় তিন সন্তান নিয়ে তিনি একাই বাড়ির দেখভাল করেন। পাশের বাড়ির রফি মিয়ার ছেলে সাকিল মিয়া (২৩), রফি মিয়া (৪৮), শুকুর মিয়া (২৫) ও রফি মিয়ার স্ত্রী হেনা বেগম (৪৩) দীর্ঘদিন ধরে বাড়ির সীমানায় বাউন্ডারি দেয়াল নির্মাণের জন্য চাপ দিয়ে আসছেন। এ নিয়ে তাঁকে বিভিন্ন সময় গালিগালাজ ও হুমকি দেওয়া হয় এবং রাতে ঘরে ইটপাটকেল নিক্ষেপ করে ভয়ভীতি দেখানো হয় বলে অভিযোগ তাঁর।
মুন্নির অভিযোগ, গত ২৪ আগস্ট রাত ৯টার দিকে সাকিল মিয়া তাঁকে ঘর থেকে ডেকে বের করে বাউন্ডারি দেয়াল নির্মাণের জন্য চাপ দেন। স্বামী দেশে ফিরলে দেয়াল নির্মাণ করবেন জানালে সাকিলসহ অন্যরা উত্তেজিত হয়ে তাঁকে মারধর করেন। এ সময় লোহার রড ও বাঁশের লাঠির আঘাতে তাঁর বাম হাতে রক্তাক্ত জখম হয়।
তিনি আরও অভিযোগ করেন, পরে ওই ব্যক্তিরা তাঁর ঘরে ঢুকে স্টিলের আলমারি ভেঙে এক ভরি ওজনের স্বর্ণের চেইন ও নগদ ৫০ হাজার টাকা নিয়ে যান। আহত অবস্থায় তিনি কমলগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা নেন। পরদিন ২৫ আগস্ট মৌলভীবাজার আদালতে চারজনকে আসামি করে মামলা করেন।
মামলা করার পর তা প্রত্যাহারের জন্য আসামিরা বিভিন্নভাবে হুমকি দিচ্ছেন বলে অভিযোগ করেন মুন্নি। তাঁর দাবি, পরে তিনি এ বিষয়ে আরও একটি মামলা করেছেন। এছাড়া প্রতিপক্ষের আত্মীয়স্বজন মানববন্ধনসহ বিভিন্ন কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে তাঁর ওপর চাপ সৃষ্টি করছেন। গ্রামের আবু তাহের ও বক্কর মিয়াসহ কয়েকজন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তাঁর বিরুদ্ধে পোস্ট দিয়ে দুর্নাম ছড়াচ্ছেন বলেও অভিযোগ করেন তিনি। এতে মামলার তদন্ত ও বিচার কার্যক্রম ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা প্রকাশ করে প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করেন মুন্নি আক্তার।
তবে অভিযোগ অস্বীকার করেছেন সাকিল মিয়াসহ অন্যরা। তাঁদের দাবি, মুন্নির অভিযোগ সম্পূর্ণ মিথ্যা, বানোয়াট ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত। তাঁদের ভাষ্য, মূলত বাঁশ কাটা নিয়ে ঝগড়া হয়েছিল; কিন্তু কোনো হামলা, মারধর বা লুটপাটের ঘটনা ঘটেনি। পরবর্তীতে ঘটনাটি সাজিয়ে উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে তাঁদের বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা করা হয়েছে। এ মামলার মাধ্যমে তাঁদের হয়রানি ও আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করার চেষ্টা চলছে বলেও দাবি করেন তাঁরা।