শায়েস্তাগঞ্জে বুথ বসিয়ে তোলা হচ্ছে বিদ্যুৎ বিল

প্রকাশিত: 9:09 PM, May 19, 2020

ধলাই ডেস্ক: বাংলাদেশে ইতোমধ্যে করোনার প্রকোপ তীব্র আকার ধারণ করেছে। করোনাকালীন সময়ে কোনোরকমে কষ্টে জীবন যাপন করছে দেশের খেটে-খাওয়া দিনমজুর, অসহায় ও দুস্থরা।

যেখানে জীবন টিকিয়ে রাখতেই হিমশিম খাচ্ছে মানুষ, ঠিক সেই মুহূর্তে সাধারণ মানুষের মাথায় বিদ্যুৎ বিলের বোঝা যেন মড়ার ওপর খাঁড়ার ঘা।

গতকাল সোমবার (১৮ মে) বিকেলে শায়েস্তাগঞ্জে বিদ্যুৎ বিল দেয়ার জন্য মাইকিং করিয়েছে হবিগঞ্জ পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি।বিষয়টি নিয়ে শায়েস্তাগঞ্জে ও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে মানুষের মাঝে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে।

মঙ্গলবার (১৯ মে) শায়েস্তাগঞ্জ উপজেলার সুতাং বাজারে গিয়ে দেখা যায় পল্লীবিদ্যুৎ এর একদল লোক বিল গ্রহণ করছেন কোনো সামাজিক দূরত্ব ছাড়াই।

এ ব্যাপারে হবিগঞ্জ পল্লীবিদ্যুৎ এর প্লান্ট ম্যানেজার নুরে আলম জানান, আমরা সব জায়গারই বিল গ্রহণ করছি। গ্রাহকদের সুবিধার কথা চিন্তা করে আমরা বিল নেয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছি। কারণ ৩-৪ মাসের বিল একত্রে দিতে গেলে গ্রাহকদের অসুবিধা হতে পারে।

এদিকে মাইকিং শুনে বিল দিতে আসা অনেকেই সংযোগ কেটে দেয়ার ভয়ে বিল দিতে এসেছেন বলে জানিয়েছেন।
বিল দিতে আসা গ্রাহকরা মানছেন না কোনো সামাজিক দূরত্ব, ফলে থাকছে করোনার ঝুঁকি।

দেশে করোনাভাইরাসের পরিস্থিতি বিবেচনায় ফেব্রুয়ারি-মার্চ-এপ্রিল-২০২০ মাসের বিদ্যুৎ বিলের বিলম্ব ফি (মাশুল) মওকুফ করার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়েছিল এবং করোনার সংক্রমণ থাকাকালীন সময়ে বিদ্যুৎ বিল জমা না নেয়ার জন্য ঘোষণা দেয়া হয়েছিল। কিন্তু সরকারের সিদ্ধান্তকে তোয়াক্কা না করে বিদ্যুৎ বিল জমা নিচ্ছে হবিগঞ্জ পল্লী বিদ্যুৎ।

এ ব্যাপারে হবিগঞ্জ পল্লী বিদুৎ সমিতির জেনারেল ম্যানেজার মোতাহের হোসেন বলেন, আমরা বিল দেয়ার জন্য কাউকেই জোর করছি না, এবং বিল না দিলে কারো সংযোগ কাটা হবে না। ব্যাংক বিল না নেয়ার কারণে আমরা যথেষ্ট পরিমাণ সামাজিক দুরত্ব বজায় রেখে কোনোরকম বিলম্ব ফি ছাড়াই বুথ বসিয়ে বিল গ্রহণ করছি।

সরকারিভাবে চলমান এ সংকটে বিল গ্রহণ করতে নিষেধ ছিল, এ বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, পিডিবির অনেক টাকা আমাদের কাছে পাওনা রয়েছে, আমরা বিদুৎ কিনে আনি, সেই বিল দেয়ার জন্যই সরকার থেকে আবার বিল গ্রহণ করার জন্য বলা হয়েছে।